✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১১, | ১৪:৫০:৩২ |ইসরায়েলি হামলা ও গাজা যুদ্ধের কারণে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে ফিরতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের ঘরোয়া ফুটবল। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির ফুটবল কার্যক্রম ও ঘরোয়া চ্যাম্পিয়নশিপ পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)।
গতকাল সোমবার রামাল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে পিএফএ সভাপতি জিবরিল রাজুব এ ঘোষণা দেন। যুদ্ধে নিহত ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলারের স্মরণে এবারের প্রতিযোগিতার নাম রাখা হয়েছে ‘কাপ অব আ থাউজেন্ড মার্টিয়ার্স’ বা ‘এক হাজার শহীদের কাপ’।
টুর্নামেন্টে অংশ নেবে মোট ২২৬টি ক্লাব। এর মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি ক্লাব রয়েছে।
তিনটি ম্যাচ দিয়ে একই দিনে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবে। ফয়সল আল-হুসাইনি স্টেডিয়ামে জাবাল আল-মুকাবের খেলবে ট্রাইব অব খলিলের বিপক্ষে। গাজায় শাবাব রাফাহ মুখোমুখি হবে খাদামাত রাফাহর। অন্যদিকে, লেবাননের আইন আল-হিলওয়ে শরণার্থী শিবিরে আল-আনসারের প্রতিপক্ষ হবে আল-নাহদা।
দীর্ঘ সংঘাত ও রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে বহু বছর ধরেই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। হামলায় আবাসিক এলাকা ও হাসপাতালের পাশাপাশি বহু ফুটবল মাঠ ও ক্রীড়া স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনে সব ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
এ পরিস্থিতির মধ্যেও খেলাধুলাকে টিকিয়ে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পিএফএ সভাপতি জিবরিল রাজুব। তিনি বলেন, বিপুল প্রাণহানির পরও ফিলিস্তিনিরা তাদের জাতীয় চেতনা হারায়নি। তার ভাষায়, খেলাধুলা তাদের কাছে আশা ও টিকে থাকার প্রতীক।
তবে ফুটবল পুনরায় চালু করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে পিএফএ। খেলোয়াড়দের স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ফিফাসহ আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে তারা।
একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে থাকা ক্লাবগুলোর বিষয়ে ফিফার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পিএফএ। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্লাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থায় ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিতের দাবি জানিয়ে আসছে।
ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ফিরতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ফিলিস্তিন। আগামী জানুয়ারিতে সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ সামনে রেখে সেপ্টেম্বরে চীনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে জাতীয় দলের।
এ ছাড়া জাপানে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী এশিয়ান গেমসে ১০৮ সদস্যের একটি ফিলিস্তিনি দল অংশ নেবে। দলটিতে ১৯টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৬৭ জন পুরুষ ও নারী অ্যাথলেট।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা ও এএফপি।