✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১১, | ১৪:৪৭:৩৩ |কলম্বিয়ায় স্মরণকালের শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের পর দেশটিতে দফায় দফায় আফটারশকের খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৫৭০ জন। ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে।
দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিস অব কলম্বিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকের পর দেশটিতে জরুরি অবস্থার ঘোষণা করা হয়। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো আরও সহজ হবে।
ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
সংস্থ্যাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারি যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, অনেক মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন