সিট বেল্ট পরতে নারাজ শিশু, শেষ পর্যন্ত বাতিল হলো ফ্লাইট

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-১১, | ১৪:৪৬:৫০ |
এক শিশুর সিট বেল্ট পরতে অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে কানাডায় একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় বিমানযাত্রায় শিশুদের আচরণ, অভিভাবকদের দায়িত্ব এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট। ভিক্টোরিয়া থেকে টরন্টোগামী পোর্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ক্রু সদস্যরা দেখতে পান, একটি ছোট শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে আছে এবং সিট বেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

পোর্টার এয়ারলাইন্স জানায়, শিশুটির সঙ্গে থাকা অভিভাবক এবং কেবিন ক্রু উভয় পক্ষই তাকে নিরাপদভাবে সিটে বসিয়ে সিট বেল্ট পরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এয়ারলাইনটির ভাষ্য, ওই অবস্থায় বিমানটি নিরাপদভাবে উড্ডয়ন করতে পারছিল না। তাই ক্রুরা বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়ার এবং শিশু ও তার অভিভাবককে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু যাত্রীদের নামানো ও পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সময় চলে যাওয়ায় বিমানটি ভিক্টোরিয়া বিমানবন্দরের রাতের রানওয়ে বন্ধ হওয়ার সময়সীমা পার করে ফেলে। ফলে সেদিন আর ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। পরে যাত্রীদের পরদিনের ফ্লাইটে পুনরায় বুক করা হয়।

ঘটনাটি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, একটি শিশুর আচরণের কারণে কেন পুরো একটি ফ্লাইট বাতিল করতে হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ অভিভাবকদের আরও কঠোর হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। আবার অনেকে বলেছেন, ছোট শিশুরা বিমানে ভয় পেতে পারে এবং সব পরিস্থিতিকে ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লিয়া তুসো বলেন, পোর্টার ক্রুদের বিমান ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি শুধু অন্য যাত্রীদের নয়, শিশুটির নিজের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তার মতে, সিট বেল্ট ছাড়া থাকা শিশু টার্বুলেন্সের সময় গুরুতরভাবে আহত হতে পারে। বিশেষ করে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় যাত্রীদের নিরাপদভাবে আসনে বেঁধে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লাইটটির এক যাত্রী আরিয়ে কোজুচ সিবিসি নিউজকে বলেন, শিশুটিকে তিনি অবাধ্য বলে মনে করেননি; বরং তাকে ভীত মনে হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি আসনের নিচে লুকানোর চেষ্টা করছিল। তাকে জোর করে সিট বেল্ট পরানো হলে সে আরও বিপজ্জনকভাবে নিচ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারত।

ঘটনাটি বিমান ভ্রমণে শিশুদের আচরণ নিয়ে পুরোনো বিতর্কও সামনে নিয়ে এসেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সন্তানদের প্রতি অতিরিক্ত ‘কোমল’ আচরণ কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে যেখানে পুরো ফ্লাইটের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অন্যদিকে, অনেকে বলছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধৈর্য ও পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৮ সালে শিকাগো থেকে আটলান্টাগামী সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট থেকে এক বাবা ও তার মেয়েকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি ছিল, শিশুটি পরে শান্ত হয়ে নিজের আসনে বসেছিল এবং কয়েক মিনিট চুপচাপ ছিল। এরপরও বিমান সংস্থার কর্মীরা পরিবারটিকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সাউথওয়েস্ট পরে জানায়, বিমানের ভেতরে কর্মী এবং ছোট শিশুসহ ভ্রমণকারী এক যাত্রীর মধ্যে কথোপকথন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

২০১২ সালেও একই ধরনের আরেক ঘটনায় একটি পরিবারকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর তারা বিমান সংস্থাটির বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের অভিযোগ তোলে এবং এনবিসির ‘টুডে শো’-তে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে।

সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা জেটব্লু তখন জানায়, ওই যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে ক্রু সদস্যদের নির্দেশনা মানছিলেন না। যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ক্যাপ্টেন তাদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক কানাডীয় ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, বিমানে ছোট শিশুকে সামলানোর ক্ষেত্রে অভিভাবক, ক্রু এবং বিমান সংস্থার মধ্যে সমন্বয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে পুরো ফ্লাইটের শত শত যাত্রীকে কতটা ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..