✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

রিলস, শর্ট ভিডিওর দুনিয়াতেও যে দেশের তরুণদের ভরসা এখনও রেডিও

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-৩১, | ২০:৫৭:৪১ |

স্মার্টফোন, রিলস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাপটের এই সময়ে রেডিওর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু আফ্রিকার চিত্র বলছে ঠিক উল্টো গল্প। বিশেষ করে তরুণদের বড় একটি অংশ এখনো নিয়মিত রেডিওতে সংবাদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান শোনেন। এমনকি কেনিয়ায় এত বেশি রেডিও স্টেশন সম্প্রচার করছে যে নতুন স্টেশনের জন্য ফ্রিকোয়েন্সি সংকট দেখা দিয়েছে।

ডিজিটাল যুগে দেশটির যোগাযোগ কর্তৃপক্ষ এমন এক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যা শুনতে কিছুটা বিস্ময়করই মনে হতে পারে। দেশটির রেডিও তরঙ্গপথে এত বেশি ভিড় যে নতুন স্টেশনের জন্য জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কেনিয়ায় ২৫০টির বেশি এফএম রেডিও স্টেশন রয়েছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি স্টেশন সম্প্রচারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। রাজধানী নাইরোবির মতো বড় শহরগুলোর রেডিও উদ্যোক্তারা বলছেন, নতুন স্টেশনের জন্য তেমন কোনো ফ্রিকোয়েন্সি আর খালি নেই।

এই পরিস্থিতি পুরো আফ্রিকায় রেডিওর বিস্ময়কর জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন। স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের পর অনেকের ধারণা ছিল, মানুষের মনোযোগের লড়াইয়ে রেডিও হয়তো হারিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত এপ্রিলে প্রকাশিত আফ্রোব্যারোমিটারের এক জরিপে দেখা গেছে, আফ্রিকাজুড়ে সংবাদ জানার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখনো রেডিও।

আফ্রিকায় রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় ১৯২০-এর দশকে। তখন ঔপনিবেশিক শাসকেরা এটি প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। পরে স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় গোপন রেডিও স্টেশনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯৬০-এর দশকে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকার ট্রানজিস্টর রেডিও সহজলভ্য করতে ভর্তুকি দেয়। তবে রেডিও সব সময় ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনি। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার আগে একটি রেডিও স্টেশন তুতসি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

বর্তমানে অবশ্য রেডিওর চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। আফ্রোব্যারোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রাম মিলিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে একাধিকবার রেডিওতে সংবাদ শোনেন। তরুণদের মধ্যেও এর জনপ্রিয়তা কম নয়। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আফ্রিকানদের প্রায় ৫৫ শতাংশ নিয়মিত রেডিও থেকে সংবাদ পান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে এ হার ৫৮ শতাংশ।

দ্য ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দেশগুলোতে রেডিওর এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ কম খরচ ও সহজলভ্যতা। সস্তা মোবাইল ফোনেও এফএম রেডিও সুবিধা থাকে। আবার রেডিও শুনতে ব্যয়বহুল মোবাইল ডেটারও প্রয়োজন হয় না। বড় শহরগুলোর যানজটে আটকে থাকা মানুষও ফোন করে সরাসরি বিভিন্ন রেডিও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইন্টারনেটও রেডিওর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জনপ্রিয় রেডিও উপস্থাপকেরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তারকা হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে ফ্রিকোয়েন্সির সংকট মোকাবিলায় কেনিয়া পরীক্ষামূলকভাবে ডিএবি বা ডিজিটাল অডিও ব্রডকাস্টিং প্রযুক্তি চালু করছে। এর মাধ্যমে একই তরঙ্গপথে আরও বেশি রেডিও স্টেশন সম্প্রচার করা সম্ভব হবে। 

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..