২০২৬ সালের ডিডাব্লিউ ফ্রিডম অফ স্পিচ অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি মিডিয়া টাইকুন জিমি লাই।
বর্তমানে কারাবন্দি এই মিডিয়া ব্যক্তিত্বকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের জন্য জার্মান রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আন্তর্জাতিক এই সম্প্রচার মাধ্যম এ স্বীকৃতি দেয়।
এ বিষয়ে ডিডাব্লিউর মহাপরিচালক বারবারা মাসিং বলেন, এ পুরস্কারের মাধ্যমে জিমি লাই-এর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অতুলনীয় নিষ্ঠাকে সম্মান জানাচ্ছে ডিডাব্লিউ।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর ক্রমশ সংকুচিত হয়ে এলেও জিমি লাই ব্যক্তিগত জীবনে বিরাট ঝুঁকি নিয়ে হংকংয়ের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন অবিচলভাবে। অ্যাপল ডেইলির মাধ্যমে সাংবাদিকদের তিনি স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশনের মঞ্চ এবং হংকং-এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছেন। তার এই অঙ্গীকার আমাদের মনে করিয়ে দেয় - সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কখনো দেওয়া হয় না, একে নিরন্তর রক্ষা করতে হয়।
দক্ষিণ চীন থেকে ১২ বছর বয়সে যখন হংকংয়ে এসেছিলেন তখন একেবারে কপর্দকহীন ছিলেন জিমি লাই। সেই বয়সেই দেখেছিলেন স্বাধীনতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন। তারপর ধীর ধীরে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটির সঙ্গে জড়িয়ে যায় জীবন।
২০১৯ সালে প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে হংকংয়ে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। ডিসেম্বরে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় হংকংয়ের আদালত।
তারপর থেকে গণতন্ত্রপন্থি এই মিডিয়া টাইকুন হংকংয়ের স্ট্যানলি কারাগারে রয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং মানবাধিকারের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের উপায় হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের ফ্রিডম অফ স্পিচঅ্যাওয়ার্ড দিয়ে আসছে ডয়চে ভেলে।
এ জাতীয় আরো খবর..