ট্রাম্পের ক্ষমতা কমানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-১০, | ১২:৫৪:০১ |

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা ইরান যুদ্ধ ঠেকানোর প্রস্তাব পাস করার জন্য আবারও চেষ্টা চালাবেন। ওই প্রস্তাব পাস হলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবার যুদ্ধ বা আক্রমণ শুরুর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে। সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা চাক শুমার গত বুধবার এ তথ্য জানান। শুমার বিষয়টি জানানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্কে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে শুমার বলেন, ‘কংগ্রেসকে অবশ্যই নিজ কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, বিশেষ করে এ বিপজ্জনক মুহূর্তে।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্প গত মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন। এর আগে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সময়সীমা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামো বিধ্বংসী আক্রমণের মুখে পড়বে। এমনকি সময়সীমা ফুরানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প হুমকি দেন, ‘আজ রাতে একটি সভ্যতার মৃত্যু হতে চলেছে’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্য পুরো বিশ্বেই বিতর্ক, উদ্বেগ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। ট্রাম্পের নিজ দেশের ভেতরেই একাধিক আইনপ্রণেতা তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন। ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশনে যুদ্ধ চলাকালীন বেসামরিকদের জন্য প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত অবকাঠামোগুলোর ওপর হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শুমার ট্রাম্পকে উন্মত্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন যে ইরান সরকারকে দুর্বল করতে ব্যর্থ হয়েছে তা তুলে ধরেন। এ সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

ইরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা মানতে নারাজ। তারা চায়, তেহরান এটি থেকে বের হয়ে আসুক, নিজেদের সব ধরনের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান ঘটাক। অন্যদিকে তেহরান এটি থেকে সরবে না বলেই জানিয়েছে। এটিকে অভিযোগ হিসেবে দাঁড় করিয়েই মূলত এ সংঘাতের সূত্রপাত।

ইরান যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী বলে দাবি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জেনারেলরা জানিয়েছেন, মার্কিন সৈন্যরা আবার লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত। ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমতি নেননি। বিষয়টি আদৌ বৈধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে সম্পূর্ণ বৈধ। একজন কমান্ডার ইন চিফ যুক্তরাষ্ট্র বিপদে আছে বলে মনে করলে সীমিত সামরিক অভিযানের অনুমতি দিতে পারে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকবার ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতায় রাশ টানার চেষ্টা করেছে। তবে তাদের প্রতিটি চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা চায়, প্রতিটি সামরিক অভিযানের আগে ট্রাম্পকে যাতে আইনপ্রণেতাদের অনুমতি নিতে হয়।
   
ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। তারা প্রায় সর্বসম্মতক্রমে ট্রাম্পকে সমর্থন দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুসারে, প্রেসিডেন্ট নয়, কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। তবে সেখানেও স্বল্পকালীন অভিযানের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। 

এদিকে, হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ঠেকাতে হাউসেরও একটি প্রস্তাবে ভোট দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালি বেপোরোয়া যুদ্ধের একটি স্থায়ী অবসান প্রয়োজন।’ সূত্র: রয়টার্স

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..