জ্বালানি সংকটে আয় অর্ধেক, দিশেহারা রাইডশেয়ার চালকরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৬, | ১৭:০১:৫৬ |
রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে রাইডশেয়ারিং খাতে। তেলের জন্য মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে ফিলিং স্টেশনগুলোতে। এক সময় যে পেশাটি তরুণদের কাছে আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেটি পড়েছে বেশ অনিশ্চয়তায়।

মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং করা চালকেরা সাধারণত দিনে গড়ে দেড় হাজারের বেশি টাকা আয় করেন। বর্তমানে সেই আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। চালকেরা বলছেন, ট্রিপের সংখ্যা কমে যাওয়া, তেল পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এবং এমন পরিস্থিতিতেও ভাড়া না বাড়ার কারণে তাদের আয় কমে গেছে। ফলে অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হওয়ার কথা ভাবছেন।

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার আগে রাইডশেয়ারিং চালকেরা তুলনামূলক স্বস্তিতে ছিলেন। দৈনিক সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ১,৫০০ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। জ্বালানি সংকট শুরুর পর, বিশেষ করে ঈদের পর পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়েছে। এখন অনেক চালক দিনে ৭০০–৮০০ টাকাও ঘরে নিতে পারছেন না। ফলে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীর নতুনবাজারের বাঁশতলা বাস স্টপেজে কথা হয় রাইডশেয়ারিং চালক শরীফ সুজনের সঙ্গে। করোনার পর থেকে তিনি মোটরসাইকেলে রাইডশেয়ারিং করছেন। তিনি জানান, আগে আধাবেলার বেশি কাজ করলে সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ১,০০০ টাকা আয় হতো, আর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করলে ১,৫০০ টাকার মতো আয় করা সম্ভব ছিল। তবে জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। ঈদের পর এখন পর্যন্ত তিনি ৫ হাজার টাকাও আয় করতে পারেননি।

বেলা ১১টার দিকে রামপুরা এলাকায় কথা হয় আরেক চালক কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি সাড়ে তিন বছর ধরে এই পেশায় যুক্ত। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে আটটায় বের হয়েছি, এখন পর্যন্ত একটি ট্রিপও পাইনি। ঈদের পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সারাদিন অপেক্ষা করলে অল্প কিছু ট্রিপ পাওয়া যায়, তাও পর্যাপ্ত নয়। এর ওপর তেলের জন্য আবার দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। তাহলে কাজ করব কখন, বিশ্রামই বা নেব কখন?

কবির হোসেন বলেন, আগে প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে বের হতাম। কিন্তু এখন সেই লক্ষ্য পূরণ করা তো দূরের কথা, দৈনিক খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। মোটরসাইকেলের কিস্তি, বাসা ভাড়া এবং সংসারের খরচ মিলিয়ে আর্থিক চাপ দিন দিন বাড়ছে। আয় না বাড়লে এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। নতুন কিছু ভাবতে হবে।

অন্যান্য চালকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু সময়ই নষ্ট হচ্ছে না, বরং কাজের ধারাবাহিকতাও ভেঙে পড়ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে অনেক ট্রিপ নিতে পারছেন না। এতে করে সম্ভাব্য আয় আরও কমে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চের শুরু থেকেই দেশে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হয়। প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। ফলে মোটরসাইকেলের জন্য তেল সংগ্রহে প্রতিটি চালককে গড়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও রাইডশেয়ারিং ভাড়ায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি। চালকদের দাবি, অ্যাপভিত্তিক ভাড়া আগের মতোই রয়েছে। দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ায় উল্লেখযোগ্য কোনো বৃদ্ধি হয়নি। এতে করে সময় ও খরচ বাড়লেও আয় বাড়ছে না।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..