অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেমটের যে দাম সাধারণত সংবাদমাধ্যমে দেখা যায়, তা মূলত ফিউচার মার্কেটের মূল্য—অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সময়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য আগাম চুক্তির দাম। এ দাম বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, জল্পনা ও বাজারের সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু বাস্তবে এখনই জ্বালানি তেল কিনতে গেলে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, সেটি হলো ‘ডেটেড ব্রেন্ট’ বা স্পট প্রাইস, যা সরাসরি বর্তমান সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সংকটে এই দুই দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যেখানে ফিউচার দাম তুলনামূলক কম থাকলেও বাস্তব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি—যা ইঙ্গিত দেয় যে প্রকৃত সরবরাহ সংকট ইতোমধ্যেই তীব্র হয়ে উঠেছে।
ইরান ও ইসরায়েলে চলমান সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। মাসখানেক আগে যখন এ লড়াই শুরু হয়, তখন অনেকে ধারণা করেছিলেন জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছতে পারে। শুরুতে একে কেবল একটি শঙ্কা মনে হলেও এখনকার বাজার পরিস্থিতি বলছে, সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে। খবর আরটি
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেমটের যে দাম সাধারণত সংবাদমাধ্যমে দেখা যায়, তা মূলত ফিউচার মার্কেটের মূল্য—অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট সময়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য আগাম চুক্তির দাম। এ দাম বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা, জল্পনা ও বাজারের সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে। কিন্তু বাস্তবে এখনই জ্বালানি তেল কিনতে গেলে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, সেটি হলো ‘ডেটেড ব্রেন্ট’ বা স্পট প্রাইস, যা সরাসরি বর্তমান সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সংকটে এই দুই দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যেখানে ফিউচার দাম তুলনামূলক কম থাকলেও বাস্তব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেশি—যা ইঙ্গিত দেয় যে প্রকৃত সরবরাহ সংকট ইতোমধ্যেই তীব্র হয়ে উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্টের দাম ১০৯ ডলারের আশেপাশে থাকলেও, স্পট মার্কেটে ডেটেড ব্রেন্টের দাম পৌঁছেছে ১৪১ ডলার ৩৭ সেন্টে। অর্থাৎ, তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য ক্রেতাদের প্রায় ৩২ ডলার বেশি প্রিমিয়াম দিতে হচ্ছে। সাধারণত ফিউচার ও স্পট প্রাইসের মধ্যে এই ব্যবধান ২ ডলারের বেশি হয় না। এ অস্বাভাবিক পার্থক্য প্রমাণ করে যে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আশা করলেও মাঠপর্যায়ে জ্বালানি তেলের জোগান অত্যন্ত সীমিত।
এ সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই প্রণালিটি কার্যত ইরানি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আগে এ পথে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি জাহাজ চলাচল করলেও এখন তা হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে। ইরান কেবল নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসংলগ্ন বার্তা ও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা বাজারের এ অনিশ্চয়তাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত যদি জুন মাস পর্যন্ত গড়ায়, তবে জ্বালানি তেলের ফিউচার দাম ব্যারেলে ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। জ্বালানি তেলের এ আকাশচুম্বী দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিবার্য মন্দার সংকেত দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। গ্রাউন্ড রিয়ালিটি বা মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র বলছে, বিশ্ব এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
এ জাতীয় আরো খবর..