বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম বেড়ে ১৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মালয়েশিয়ায় এ ভোজ্যতেলের বাজার টানা পঞ্চম সপ্তাহের মতো ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গতকাল মালয়েশিয়ান পাম অয়েল ফিউচার্সে দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। মূলত মজুদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ার নতুন বায়োডিজেল পরিকল্পনা ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে এ মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বাজারের তথ্যানুযায়ী, মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে জুনে পাম অয়েল সরবরাহের চুক্তিমূল্য ৪৭ রিঙ্গিত বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৪ হাজার ৮৩৮ রিঙ্গিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই পাম অয়েলের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য। চলতি সপ্তাহে সব মিলিয়ে পণ্যটির দাম ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণে পাম অয়েলের দাম বাড়ছে। কুয়ালালামপুরভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ফার্ম ট্রেড’-এর পরিচালক সন্দীপ সিং জানান, মার্চের শেষে মালয়েশিয়ায় তেলের মজুদ কমে যাওয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার বি-৫০ বায়োডিজেল কর্মসূচি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অস্থিতিশীল দাম এবং মার্কিন বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী রেখেছে।
একটি জরিপ অনুযায়ী, গত মার্চে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে। উৎপাদন সামান্য বাড়লেও রফতানি অনেক বেশি হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড (এমপিওবি) এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করবে।
ভোজ্যতেলের এ মূল্যবৃদ্ধি ভারত ও বাংলাদেশের মতো আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের পাম অয়েল আমদানি মার্চে প্রায় ১৯ শতাংশ কমে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমদানিকারকরা এখন বাজারে দর কমার অপেক্ষায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এ অস্থিরতা বজায় থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..