প্রধানমন্ত্রীর উপহারে বদলে গেল টুলি বেগমের জীবন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০৩, | ২১:০৪:৪৯ |
‘অটোরিকশার চাকার শব্দে বেঁচে থাকা। স্বামী-সন্তানেরা খোঁজ নেয় না, তবুও অটোরিকশা চালিয়ে মা টুলি বেগমের বেঁচে থাকার লড়াই’– শীর্ষক একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে তা বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবারের’ প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়। 

এরপর প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে অসহায় টুলি বেগমের পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজশাহীর বড়গাছি মালপাড়া আশ্রয়কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় নরসিংদী রায়পুরার সংসদ সদস্য ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’- এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের নেতৃত্বে এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের উপস্থিতিতে অসহায় টুলি বেগমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল।

এ সময় প্রতিনিধি দলটি টুলি বেগমের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দিয়ে টুলি বেগমকে নতুন ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা উপহার ও নগদ আর্থিক সহায়তা দেন। প্রতিনিধি দলটি টুলি বেগমকে আশ্বস্ত করেন বিএনপি পরিবার সর্বদা তার পাশে থাকবে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে অনেক খুশি অসহায় টুলি বেগম। প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টুলি বেগম বলেন, ‘আমাকে উপহার পাঠানোয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উনি অনেক বড় মনের মানুষ। আমি কতটা খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। নতুন রিকশাটি পাওয়ায় আমার পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে। আমি মহান আল্লাহর দরবারে প্রধানমন্ত্রীর জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।’

তিনি বলেন, সময়টা ছিল করোনাকাল। চরম অভাবের সংসার ছেড়ে একে একে চলে যান স্বামী ও দুই ছেলে। দুই মেয়ে ও এক নাতিকে নিয়ে পড়েন গভীর সংকটে। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে নাতি। ঘরে খাবার নেই, ওষুধ কেনার সামর্থ্যও ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে রাজশাহী শহরে এসে ভাড়ায় অটোরিকশা চালানো শুরু করেন টুলি বেগম। টানা প্রায় পাঁচ বছর ধরে এভাবেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

টুলি বেগমের জীবনের গল্পটা একটু ভিন্ন। জীবনযুদ্ধে লড়াই করে যাওয়া এক সাহসী নারী তিনি। নিজের কর্মজীবন নিয়েই নিজে গান লিখেছেন; নিজেই গীতিকার, সুরকারও নিজেই। অটোরিকশা চালানোর সময় নিজের লেখা সেই গানই গেয়ে ওঠেন তিনি। ৪৬ বছর বয়সী এই নারী প্রতিদিন সকালে শহরে এসে অটোরিকশা চালিয়ে রাতে বাড়ি ফিরে যান। সেই উপার্জন দিয়ে চলে সংসার। 

জানা গেছে, প্রতিদিন অটোরিকশার জন্য তাকে গুনতে হতো ৩০০ টাকা ভাড়া। ফলে অনেক দিনই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাকে। তবে এবার বদলেছে তার ভাগ্য। গণমাধ্যমে টুলি বেগমের সংগ্রামী জীবনের গল্প নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তার পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয় এবং উপহার হিসেবে দেওয়া হয় একটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এতে দারুণ খুশি টুলি বেগম এখন অনেকটাই নির্ভার। 

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হস্তান্তরকালে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, অসহায় টুলি বেগমের বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখতে পেয়ে আমাদের মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আমরা বিএনপি পরিবারকে’ তার পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা এসে তাকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শুধু টুলি বেগম নয়, সারাদেশে অসংখ্য খুন ও গুমের শিকার পরিবার এবং অনেক অসহায় পরিবারকে এভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আগামীতে আরও বড় পরিসারে এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে পারব বলে আশা করছি।

এ সময় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীসহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..