বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন হয়েছে। লেনদেনের শুরুতে গতকাল স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়লেও পুরো মাসের হিসাবে এ মূল্যবান ধাতু রেকর্ড দরপতনের মুখে পড়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের চড়া দাম এবং ডলারের শক্তিশালী বিনিময় হারের কারণে গত দেড় দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে স্বর্ণের বাজার সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের শিকার হয়েছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫৫৯ ডলার ৪৬ সেন্টে পৌঁছেছে। যা গত ২০ মার্চের পর মূল্যবান ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম। তবে এ সাময়িক বৃদ্ধি সত্ত্বেও চলতি মার্চে স্বর্ণের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমেছে। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এটিই স্বর্ণের বাজারে সবচেয়ে বড় মাসিক দরপতন। অথচ গত ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। বর্তমানে সেই রেকর্ড অবস্থান থেকে দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এ সময় এপ্রিলে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৮৮ ডলারে।
দুবাই উপকূলে গতকাল ভোরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরান হামলা চালালে বিশ্ববাজারে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির জ্বালানি কেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করে দেয়া হবে। এ উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যেমন বেড়েছে, তেমনি ডলারের বিনিময় হারও গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণ কেনা এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান গতকাল স্বর্ণের দামের এ সামান্য বৃদ্ধিকে ‘ডেড ক্যাট বাউন্স’ বা সাময়িক ও কৃত্রিম উত্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারেন, তবেই জ্বালানি তেলের দাম ও ডলারের বিনিময় হার কমতে পারে। সেটি হলে স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বর্ণের বাজার বেশ চাপে রয়েছে।’
সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা এখন মনে করছেন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কোনো সুদহার কমাবে না। যুদ্ধ পরিস্থিতি সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়ায় ফেড সুদহার উচ্চ রাখার পক্ষেই অবস্থান নিতে পারে। তবে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস ভিন্ন এক পূর্বাভাস দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে এ বছর ফেড অন্তত দুইবার সুদহার কমাতে পারে। ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..