মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধেও স্থিতিশীল বিটকয়েন, আসিয়ানে ক্রিপ্টো গ্রহণে নতুন গতি

ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণে এগিয়ে আছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া | ছবি : রয়টার্স

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০১, | ১৫:১৯:০৫ |
বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগের বাজার এক অস্থির সময় পার করছে।

বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শেয়ারবাজার ও বন্ডের মতো প্রথাগত সম্পদগুলোয় বড় ধরনের উত্থান-পতন লক্ষ করা গেছে। তবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজার, বিশেষ করে বিটকয়েনের স্থিতিস্থাপকতা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় (আসিয়ান) নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।


সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে প্রথাগত সম্পদগুলোর দর যখন টালমাটাল, তখন ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল্য তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে বিটকয়েনের দাম প্রতি ডলারে ৬৫-৭৫ হাজার ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। এমনকি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক আগের দিনের তুলনায় গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত বিটকয়েনের মূল্য ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময় বিশ্ববাজারের অন্যান্য সূচকে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এমএসসিআই এশিয়া প্যাসিফিক স্টক ইনডেক্স ১২ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। এদিকে মার্কিন ডলার ইনডেক্স বেড়েছে ২ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথাগত শেয়ারবাজারের তুলনায় বিটকয়েন অনেক শক্ত অবস্থানে আছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির ছাপ স্পষ্ট। গত বছরের অক্টোবরের সে ভয়াবহ সময়ের কথা এখনো ভোলেননি বিনিয়োগকারীরা।

ওয়েব থ্রি এসজি ও মার্সেনারি ক্যাপিটালের সহপ্রতিষ্ঠাতা গোহ হিং ইয়াও বলেন, গত অক্টোবর থেকে বিটকয়েনের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে হয় ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার। পরের সপ্তাহেই শুরু হয় বিশাল ধস। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। অনেকেই এ দরপতনকে ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ বা স্থবির ক্রিপ্টো বাজার হিসেবে অভিহিত করছেন। তবে এ মন্দার মধ্যেও সরকার ও বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক ধরনের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছে বলে উল্লেখ করছেন গোহ হিং ইয়াও।

ক্রিপ্টোকারেন্সিকে একসময় ‘পরবর্তী সময়ের স্বর্ণ’ বলা হতো, যা শেয়ারবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চলে বরং প্রতিকূল সময়ে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বা ‘হেজিং’ অপশন দেবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় বিটকয়েনের অবস্থান সে তত্ত্বে কিছুটা হলেও প্রাণ সঞ্চার করেছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি গ্রহণের ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শুরুতেই বেশ এগিয়ে। চেইনালিসিসের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি ক্রিপ্টো গ্রহণকারী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে আসিয়ানভুক্ত ছয়টি দেশ। এগুলো হলো কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। যদিও মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের অনেক বিনিয়োগকারীই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর প্রযুক্তিগত সুবিধা গ্রহণের আগ্রহ কমেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মূল ভিত্তি ব্লকচেইন প্রযুক্তির বিশেষ কিছু আকর্ষণীয় দিক রয়েছে। যেমন এ লেনদেন সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় লাগে, যেকোনো সময় লেনদেন করা সম্ভব, কোনো মধ্যস্থতাকারী না থাকায় ফি অত্যন্ত কম, যা আন্তঃদেশীয় লেনদেনের জন্য আদর্শ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ‘স্টেবলকয়েন’ ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যা সাধারণত মার্কিন ডলারের মতো ফিয়াট কারেন্সির সঙ্গে যুক্ত থাকে। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, ওই বছর মোট ক্রিপ্টো লেনদেনের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল স্টেবলকয়েন। বর্তমানে বৈশ্বিক রেমিট্যান্সের মাত্র ১ শতাংশের কম স্টেবলকয়েনের মাধ্যমে পাঠানো হয়। তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এ হার দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান। অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী সর্বস্ব হারিয়েও বাজার ছেড়েছেন। ব্লকচেইন প্রযুক্তির সুবিধা এবং প্রতিকূল সময়ে বিটকয়েনের টিকে থাকার ক্ষমতা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..