খুলনা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৩৭ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের অধিকাংশকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ১৯ জনের শরীরে এরই মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
শিশুদের স্বজনরা জানান, হঠাৎ জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও দুর্বলতা দেখা দেয়ার পরই সন্তানদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন তারা।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অল্পবয়সী—বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী এবং ৬-৯ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ টিকাদান সম্পন্ন করেনি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
আক্রান্তদের উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরবর্তীতে সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর সব জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালুর নির্দেশনা দিয়েছে। বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, সম্প্রতি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনায়ও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ হাসপাতালে নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শিশুদের জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে তাদের স্কুলে না পাঠিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হামের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে এনআইসিইউ সংকটের কথাও তুলে ধরেন এ কর্মকর্তা।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। ফলে সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন, যাদের বয়স ৫-৮ মাসের মধ্যে। সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে আইসোলেশন ইউনিট চালু থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা অপর্যাপ্ত।
এ জাতীয় আরো খবর..