অ্যাপলের পঞ্চাশ বছর

গ্যারেজের ছোট পরিসর থেকে যেভাবে হয়ে উঠল গ্লোবাল জায়ান্ট

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারিতে নতুন আইফোন উন্মোচনে স্টিভ জবস | ছবি: রয়টার্স

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-০১, | ১৪:৫৭:৪৮ |

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক ছোট গ্যারেজে শুরু হয়েছিল পথচলা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। আজ ৫০ বছরে পা দিয়েছে টেক জায়ান্টটি। শুধু একটি প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে নয়, বরং আধুনিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে কুপারটিনোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।

গ্যারেজ পেরিয়ে বিশ্বজয়

স্টিভ ওজনিয়াক ১৯৭৬ সালের শুরুর দিকে একটি কম্পিউটার সার্কিট বোর্ড ডিজাইন করেন। তার ইচ্ছা ছিল স্থানীয় ক্লাবের শৌখিন বন্ধুদের সঙ্গে এটি শেয়ার করা। কিন্তু তার বন্ধু স্টিভ জবস এর মধ্যে দেখেছিলেন এক বিশাল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম নেয় অ্যাপল।

গত পাঁচ দশকে ডেস্কটপ কম্পিউটার থেকে শুরু করে স্মার্টফোন, সবকিছুকেই সাধারণ মানুষের নাগালে এনেছেন ওজনিয়াক ও জবস। বিশেষ করে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের অনন্য সমন্বয় ও মোবাইল অ্যাপের জনপ্রিয়তা প্রযুক্তি বিশ্বে একচ্ছত্র আধিপত্য এনে দিয়েছে অ্যাপলকে।

পুঁজিবাজারে উত্থান

পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করলেও চলতি শতকের শুরুতে আইফোনের অভাবনীয় সাফল্য অ্যাপলের শেয়ারদরকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিজস্ব ‘এম-সিরিজ’ চিপ প্রবর্তন ম্যাকবুক বিক্রিতে নতুন গতি আনে।

বর্তমানে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরে কোম্পানির সম্ভাব্য বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

বিশ্লেষক বেন থম্পসনের মতে, আগামী ৫০ বছর অ্যাপল কতটা সফল হবে তা নির্ভর করবে এআই প্রযুক্তিতে তারা ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কতটা টেক্কা দিতে পারে তার ওপর
steve_jobs

তারুণ্যের দিনগুলোয় স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক। ছবি: এপি

এআই যুগে নতুন চ্যালেঞ্জ

সাফল্যের চূড়ায় থাকলেও অ্যাপল এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের যুগে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে এগিয়ে যাচ্ছে গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি আসার পর থেকে ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ বা সাত বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে অ্যাপলের শেয়ারের পারফরম্যান্স ছিল দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৭ সাল থেকে চিপসেটে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করলেও সিরির মতো ফিচারে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে দেরি করেছে অ্যাপল। এছাড়া ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্মার্টফোনের বিকল্প এআই ডিভাইস আনার পরিকল্পনা করছে, যা অ্যাপলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।

জনপ্রিয়তায় এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী

প্রতিযোগিতা থাকলেও অ্যাপল পণ্যের জনপ্রিয়তা এখনো তুঙ্গে। সাম্প্রতিক আইফোন ১৭ সিরিজ ও সাশ্রয়ী দামের ‘ম্যাকবুক নিও’ বাজারে আসার পর গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে কোম্পানিটি। তবে বিশ্লেষক বেন থম্পসনের মতে, আগামী ৫০ বছর অ্যাপল কতটা সফল হবে তা নির্ভর করবে এআই প্রযুক্তিতে তারা ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কতটা টেক্কা দিতে পারে তার ওপর।

তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়া অ্যাপলের ৫০ বছরের যাত্রা যেমন গৌরবের, তেমনি সামনের দিনগুলোয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে টিকে থাকাই হবে কোম্পানির প্রধান পরীক্ষা।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..