সময় গণনার এ ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতির আদি কারিগর সুমেরীয়রা। ধারণা করা হয়, পদ্ধতিটি এসেছে মানুষের হাতের আঙুল গণনার কৌশল থেকে। বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যবহার করে এক হাতের বাকি চার আঙুলের ১২টি কর গণনা করা যায়। এভাবে অন্য হাতের ৫টি আঙুল ব্যবহার করে পাঁচবার ১২ গণনা করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০। এ জাদুকরী সংখ্যাটিই পরবর্তী ৫ হাজার বছর ধরে গণিতের রাজত্ব দখলে রেখেছে।
আধুনিক সভ্যতার সবকিছুই ১০ ভিত্তিক বা দশমিক পদ্ধতিতে পরিমাপ করা হয়। অথচ ঘড়ির কাঁটার হিসাবটি ভিন্ন। ১০ ঘণ্টার বদলে ২৪ ঘণ্টায় বিভক্ত এক দিন আর প্রতি ঘণ্টা ১০০ মিনিটের বদলে ৬০ মিনিটে সীমাবদ্ধ। কিন্তু কেন? এ রহস্যের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে সুদূর মেসোপটেমীয় সভ্যতায়। আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে নেয়া একটি গাণিতিক সিদ্ধান্ত আজও নির্ধারণ করে দিচ্ছে প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব।
আঙুলের কর থেকে সংখ্যাতত্ত্ব
সময় গণনার এ ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতির আদি কারিগর সুমেরীয়রা। ধারণা করা হয়, পদ্ধতিটি এসেছে মানুষের হাতের আঙুল গণনার কৌশল থেকে। বৃদ্ধাঙ্গুলি ব্যবহার করে এক হাতের বাকি চার আঙুলের ১২টি কর গণনা করা যায়। এভাবে অন্য হাতের ৫টি আঙুল ব্যবহার করে পাঁচবার ১২ গণনা করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০। এ জাদুকরী সংখ্যাটিই পরবর্তী ৫ হাজার বছর ধরে গণিতের রাজত্ব দখলে রেখেছে।
১০-এর তুলনায় ৬০ সংখ্যাটির ব্যবহারিক সুবিধা অনেক বেশি। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ব্রান্সউইকের বিশেষজ্ঞ মার্টিন উইলিস মনরোর মতে, ৬০ সংখ্যাটিকে ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ১০, ১২, ১৫, ২০ ও ৩০—দিয়ে কোনো ভগ্নাংশ ছাড়াই ভাগ করা যায়। প্রাচীনকালে কর আদায়, হিসাবরক্ষণ বা জমি মাপার ক্ষেত্রে এ সহজ বিভাজন পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত কার্যকর।
মিসরীয়দের ২৪ ঘণ্টা ও নক্ষত্রের হিসাব
দিনের ২৪ ঘণ্টার ভাগটি এসেছে প্রাচীন মিসরীয়দের হাত ধরে। খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দের ধর্মীয় টেক্সট থেকে জানা যায়, তারা রাতকে ১২টি ভাগে বিভক্ত করেছিল। মিসরীয় কফিনের ভেতর পাওয়া ‘স্টার ক্লক’ থেকে ধারণা করা হয়, নক্ষত্রমণ্ডলী বা রাশিচক্রের ওপর ভিত্তি করে তারা এ ১২ ভিত্তিক বিভাজন করেছিল। পরবর্তীতে দিনের আলোর সময়কেও একইভাবে ১২ ভাগে ভাগ করার ফলে পূর্ণ দিবসটি ২৪ ঘণ্টায় রূপ নেয়।
ব্যাবিলনীয়দের অবদান ও মিনিটের জন্ম
সুমেরীয়দের পর ব্যাবিলনীয়রা (খ্রিস্টপূর্ব ২০০০-৫৪০ অব্দ) এ লিগ্যাসি এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা লক্ষ্য করেছিল, সূর্য আকাশে নিজের পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসতে প্রায় ৩৬০ দিন সময় নেয়। ৬০ ভিত্তিক পদ্ধতির অনুসারী হওয়ায় ৩৬০ সংখ্যাটি তাদের কাছে ছিল অত্যন্ত সুবিধাজনক। এ হিসাব থেকেই তারা বছরে ১২ মাস আর মাসে ৩০ দিনের ধারণা তৈরি করে।
ব্যাবিলনীয়রা মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি মাপার জন্য বড় সময়কে ছোট অংশে ভাগ করতে শুরু করে। তারা তাদের দ্বিগুণ ঘণ্টা বা ‘বেরু’-কে ৬০ ভাগে ভাগ করে ‘উশ’ নাম দেয়, যা আজকের ৪ মিনিটের সমান। এই উশ-কে আবার ৬০ ভাগে ভাগ করে তারা নাম দেয় ‘নিন্দা’ । যদিও তারা একে সময়ের চেয়ে দূরত্বের একক হিসেবেই বেশি দেখত, গ্রিক জ্যোতির্বিদরা পরবর্তীতে এ নিখুঁত হিসাব গ্রহণ করেন এবং তা আধুনিক ঘড়ির সেকেন্ড ও মিনিটে পরিণত হয়।
এ জাতীয় আরো খবর..