ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বৈশ্বিক অর্থনীতির নাভিশ্বাস দশা চরমে পৌঁছেছে।
এতদিন অর্থনৈতিক যুদ্ধের লাগাম কেবল যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো পরাশক্তিগুলোর হাতে থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সে ধারণা বদলে দিয়েছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো এডওয়ার্ড ফিশম্যানের মতে, ২০২৬ সালের সবচেয়ে প্রভাববিস্তারী ভূ-অর্থনৈতিক ঘটনা হলো ইরানের হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘চোক পয়েন্ট’ বা প্রতিবন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ফিশম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধের হাতিয়ার মূলত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ককেন্দ্রিক হলেও ইরানের শক্তি এর ভৌগোলিক অবস্থান। হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ করে বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানো আটকে দেয়া নিশ্চিত করেছে ইরান। একে ফিশম্যান একটি ‘ভূ-অর্থনৈতিক ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা শক্তিশালী মারণাস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।
জ্বালানি ছাড়িয়ে সংকটের বিস্তার
যুদ্ধের প্রথম ও স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে। তবে এর চেয়েও বড় উদ্বেগের কারণ হলো বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ সার এ সংকীর্ণ পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম।
হিলিয়াম ও চিপ শিল্পের বিপদ
ফিশম্যান বলছেন, এ সংকটে সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে প্রযুক্তি খাতে। হরমুজ প্রণালি মূলত হিলিয়াম গ্যাসের একটি বড় সরবরাহ পথ। হিলিয়াম কেবল বেলুন ওড়ানোর জন্য নয়, বরং সেমিকন্ডাক্টর বা কম্পিউটার চিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য। হিলিয়ামের সরবরাহ ব্যাহত হলে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে। ফলে বিশ্বজুড়ে টেক জায়ান্ট বা বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদরে ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর খাতের কোনো নেতিবাচক খবর এশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ হয়ে আসবে। সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কেবল আঞ্চলিক অস্থিরতা নয়, বরং একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..