সর্বশেষ :
শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী মিলন স্বাস্থ্যখাতে সিন্ডিকেট-দুর্নীতি থাকবে না: সাখাওয়াত হোসেন এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী মব জাস্টিস নিয়ন্ত্রণ করা হবে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন অতি সাধারণভাবেই অফিস করলেন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধের জায়গায় মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের জায়গায় চব্বিশ: আমির খসরু ‘একজন যাত্রী ইমিগ্রেশন শেষ করতে করতেই যাতে তার লাগেজ বেল্টে পেয়ে যান’

পারমাণবিক বোমার চেয়েও ভয়ঙ্কর অস্ত্র এখন ক্ষুধা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-০৯-১৬, | ০৫:০২:০৯ |
 
গাজা উপত্যকায় প্রতিটি নিঃশ্বাস আজ টিকে থাকার এক করুণ সংগ্রাম। ইহুদি দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলের নির্মম অবরোধে ফিলিস্তিনিরা যেন জীবন্ত কবরের মাঝে আটকে পড়া আত্মা। ক্ষুধার করাল গ্রাসে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম। কিন্তু সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য হলো, অপুষ্টিতে কঙ্কালসার শিশুগুলো আর কাঁদতেও পারছে না। অপুষ্টি তাদের হাড় গিলে খেয়েছে,ক্ষুধা যেন তাদের শ্বাস থামিয়ে দিয়েছে। ফিলিস্তিনি শিশুরাই কেবল নয়, বয়স্করাও ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদছে।  এ যেন মানবতার চরম পরাজয়ের চিত্র!গাজায় মৃত্যুর কারণ আর বোমা নয়, এখন মৃত্যু আসছে খিদের ছুরিতে। ইসরায়েলি অবরোধ শুধু গাজাকে আটকে দেয়নি, তারা থামিয়ে দিয়েছে খাবার, পানি, ওষুধ, থামিয়ে দিয়েছে মানবতার ন্যূনতম অধিকার। আর তাই গাজায় প্রতিদিন বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা, আর সেইসঙ্গে বাড়ছে লাশের মিছিল। বয়স্করাও আর সহ্য করতে পারছে না। একজন পিতা, যিনি নিজের ছেলেমেয়েকে একসময় বুকে নিয়ে ঘুম পাড়াতেন, আজ তিনি নিজেই ক্ষুধায় বাচ্চার মতো কাঁদছেন। মৃত্যু আর ক্ষুধার এই অমানবিক প্রতিযোগিতায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪২২ জন!

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৫৩ ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির বুক চিরে ধসে পড়েছে ১৬টি ভবন। তিনটি ছিল মানুষের বসবাসের শেষ আশ্রয়। এসব ধ্বংস শুধু ইট-পাথরের ওপর নয়, সরাসরি মানবতার ওপর চালানো আঘাত। উত্তর গাজার জনগণকে উচ্ছেদ করতে চালানো এই নিষ্ঠুর আক্রমণের ফাঁকেই ক্ষুধা আর অপুষ্টিতে নিঃশেষ হলো আরও দুইটি জীবন। একদিকে বোমা, অন্যদিকে অভুক্তর মৃত্যু, গাজা যেন ধ্বংস আর হাহাকারের এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

এদিকে, অবিরাম হামলায় পরিবারগুলো আবারও দক্ষিণাঞ্চলের আল-মাওয়াসির দিকে পালাচ্ছে। তবে, যে আল-মাওয়াসিরকে বলা হয়েছিল নিরাপদ, সেই জায়গায় নেই পানি, নেই টয়লেট, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। খোলা আকাশই এখন ছাদের নামান্তর। শিশুদের চোখে ঘুম নেই, পেটে খাবার নেই, কাঁধে ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার বোঝা। অপুষ্টিতে কাবু ছোট ছোট শিশুগুলোকে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতে সবাই তাকিয়ে আছেন একটি নতুন তাঁবুর আশায়। কারণ, আসন্ন শীত যে আরও নির্মম, আরও ভয়াবহ!

প্রথম থেকেই এই যুদ্ধের সবচেয়ে নীরব আর নিষ্পাপ শিকার শিশুরা। অপুষ্টি, তৃষ্ণা আর শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা তাদের ছোট্ট শরীরে আগুনের মতো নেমে আসছে। তবে, এবার তাদের সাথে সামিল হয়েছে বয়স্করাও। সবমিলিয়ে ক্ষুধা এখন শুধু একটা শব্দ নয়, গাজা উপত্যকায় এটি এখন মৃত্যু ঘনিয়ে আনার আরেক নাম। ইসরায়েলি অবরোধ আর নিষ্ঠুরতার এই দীর্ঘ কালো রাতের শেষ কোথায়—তা জানে না কেউ। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, গাজার মাটিতে প্রতিটি ফোঁটা রক্ত, প্রতিটি কান্না ইতিহাস হয়ে থাকবে, মানবতার ব্যর্থতার এক নীরব সাক্ষী হয়ে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...