✕


পৃথিবীর চেয়েও প্রাণবান্ধব গ্রহ থাকতে পারে মহাবিশ্বে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১০-১৫, | ০১:৩৮:০৩ |

পৃথিবীর চেয়ে উষ্ণ আবহাওয়া, বেশি পানি আর প্রাণের বিকাশের পরিবেশ অন্য গ্রহে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা এসব সম্ভাব্য গ্রহকে বলছেন ‘সুপারহ্যাবিটেবল’ বা পৃথিবীর চেয়েও বাসযোগ্য গ্রহ। তবে এখনো এমন কোনো গ্রহের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়নি।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি এবং ভর প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। বেশি মাধ্যাকর্ষণ পুরু বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে। বড় লৌহকেন্দ্র থেকে তৈরি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র ক্ষতিকর বিকিরণ ঠেকাতে পারে।

বিস্তৃত অগভীর সমুদ্র, হ্রদ ও দ্বীপ সেখানে জীববৈচিত্র্যের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতেও এমন পরিবেশে সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র দেখা যায়।

গবেষকদের বিশেষ আগ্রহ কমলা রঙের ‘কে-বামন’ নক্ষত্রকে ঘিরে। সূর্যের চেয়ে ছোট ও শীতল এসব নক্ষত্র ধীরে জ্বালানি পোড়ায়। ফলে কয়েক হাজার কোটি বছর স্থিরভাবে আলো দিতে পারে। এতে আশপাশের গ্রহে প্রাণের বিবর্তনের সময়ও বেশি মিলতে পারে।

বার্লিনের পরীক্ষাগারে জ্যোতির্জীববিজ্ঞানী ইভা ভিলোভিচ এমন নক্ষত্রের অনুকরণে তৈরি আলোয় গার্ডেন ক্রেস লাগিয়েছেন। কৃত্রিম সূর্যালোকের তুলনায় গাছগুলো দ্রুত বেড়েছে এবং বেশি লম্বা হয়েছে। ফলটি সেখানে সালোকসংশ্লেষণ কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা দেখায়।

২০১৪ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী রেনে হেলার ও জন আর্মস্ট্রং এই ধারণা তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য, শুধু পৃথিবীর অনুরূপ গ্রহ খুঁজলেই চলবে না।

সূর্য ক্রমে উজ্জ্বল হচ্ছে। গবেষকদের হিসাবে, প্রায় ৫০ কোটি বছর পর পৃথিবী উদ্ভিদ ও প্রাণীর মতো জটিল জীবনের জন্য অতিরিক্ত উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহ খুঁজতে ২০২৭ সালে উৎক্ষেপণের জন্য নির্ধারিত ইউরোপীয় ‘প্লেটো’ অভিযানের দিকে তাকিয়ে আছেন বিজ্ঞানীরা। পরে জেমস ওয়েবসহ বিভিন্ন দূরবীক্ষণযন্ত্র দিয়ে বায়ুমণ্ডলে জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন খোঁজা হবে।

তবে অনুকূল পরিবেশ থাকলেই প্রাণ থাকবে, এমন নয়। পৃথিবীই এখনো প্রাণের সন্ধান পাওয়া একমাত্র গ্রহ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..