✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৯, | ০২:০০:৩৫ |অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয়ী কেটি মার্চ্যান্ট সাইক্লিং থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। মার্চ্যান্ট, সোফি কেপওয়েল এবং এমা ফিনুকানের ত্রয়ী ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে নারীদের টিম স্প্রিন্ট ইভেন্টে ব্রিটেনের হয়ে স্বর্ণপদক জয়ের পথে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন।
একই বছরে তিনি বিশ্ব ও ইউরোপীয় শিরোপা জয় করেন। এর আগে ২০১৬ সালে রিও অলিম্পিকে নিজের অভিষেক আসরে তিনি ব্যক্তিগত স্প্রিন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। মার্চ্যান্ট জানান, তিনি ২০২৮ সালে লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী অলিম্পিক গেমস পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। তবে এই গ্রীষ্মের কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য পদক জয়ের মধ্য দিয়েই তার ১৩ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি ঘটল।
মার্চ্যান্ট বলেন, আমি যা অর্জনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু অর্জন করেছি। অনুভূতিটা সত্যিই অদ্ভুত। তবে সিদ্ধান্তটি নেওয়া খুব একটা কঠিন ছিল না। আমাকে ভুল বুঝবেন না, এমন কিছু মুহূর্ত এসেছে যখন আমি ভেবেছি, ‘আমি কি চালিয়ে যেতে পারি? আমার কি চালিয়ে যাওয়া উচিত? যদি আমি চালিয়ে যাই তবে কেমন হবে?' কিন্তু আরও দুই বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতির প্রয়োজন, তা আমার জানা আছে। লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে যাওয়ার জন্য যে ধরনের ত্যাগ বা সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন, আমি আর সেসব করতে চাই না।"
মার্চান্ট ছিলেন একজন ব্রিটিশ জুনিয়র হেপ্টাথলিট। ২০১৩ সালে এক কোচ স্ট্যাটিক বাইকে তার চমৎকার টাইমিং বা গতি দেখে তাকে সাইক্লিংয়ে আসার পরামর্শ দেন। লিডসে জন্মগ্রহণকারী মার্চান্ট ২০২৪ সালে মা হওয়ার পর শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা প্রথম ট্র্যাক স্প্রিন্টার হন।
প্রথম সন্তানের জন্মের দুই বছরের মধ্যে তিনি অলিম্পিক, বিশ্ব এবং ইউরোপীয় শিরোপা জয় করেন। এরপর এক দুর্ঘটনায় তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় এবং তিনি ১২ মাস রেসিং থেকে দূরে থাকতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের ছয় মাস পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি আবারও ট্র্যাকে ফেরেন। এরপর জুলাই মাসে রিয়ান্না প্যারিস-স্মিথ ও সোফি কেপওয়েলের সাথে মিলে টিম স্প্রিন্টে কমনওয়েলথ গেমসে রৌপ্য পদক জয় করেন।
গেমস শুরুর আগে মার্চান্ট ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস গেমসে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছিলেন। তবে এখন তিনি জানিয়েছেন, এর পরিবর্তে তিনি এখন ‘কিছুটা স্বাধীনতা’ উপভোগ করার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমি আমার যাত্রাপথ নিয়ে ফিরে দেখার বা ভাবার সময়টা উপভোগ করছি। খেলাধুলার ব্যস্ততার মাঝে আমরা সাধারণত এমনটা করার সুযোগ খুব একটা পাই না। আমি একজন কৃষকের স্ত্রী, তাই হয়তো সেই জীবনযাত্রার সাথে কিছুটা জড়িয়ে পড়তে পারি বলেও জানান ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রীড়াবিদ।