✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৮, | ১২:৪৬:৫৯ |চীনের দীর্ঘ ‘পান্ডা কূটনীতি’র ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি চিড়িয়াখানায় নতুন আবাসে যাচ্ছে দুটি বৃহদাকার পান্ডা। রোববার ভোরে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চেংদু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে পান্ডা দুটি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে পান্ডা দুটি নিয়ে উড়োজাহাজটি চেংদু ত্যাগ করে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফর শেষ হওয়ার একদিন পরই পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করলো।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা কমাতে একটি সমঝোতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে সরাসরি যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
চেংদুর বৃহদাকার পান্ডা প্রজনন ও গবেষণা কেন্দ্র পান্ডা দুটির বিদায় উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দীর্ঘ যাত্রায় তাদের খাবারের জন্য তাজা বাঁশের কচি পাতা ও আপেলও বিমানে পাঠানো হয়েছে।
আটলান্টায় পৌঁছানোর পর পান্ডা দুটি কোয়ারেন্টাইনে থাকবে। এ সময় তাদের দেখভালের জন্য চীনের কয়েকজন পশুচিকিৎসক ও প্রশিক্ষক আটলান্টার চিড়িয়াখানায় অবস্থান করবেন।
মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানান হয়, চীনা ও মার্কিন বিশেষজ্ঞরা পান্ডা দুটির নতুন আবাসস্থল প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংস্কারের পর আবাসস্থলের ভেতরের জায়গা বাড়ানো হয়েছে। সেখানে পান্ডাদের চলাফেরা, বিশ্রাম ও অনুসন্ধানের জন্য নতুন আবাসন, পাথরের মঞ্চ ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পান্ডা দুটির নাম পিং পিং ও ফু শুয়াং। পিং পিংয়ের অর্থ ‘শান্তি’। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম নেওয়া এই পান্ডার চোখের চারপাশে বড় কালো দাগ রয়েছে এবং গাছে উঠতে সে বেশ দক্ষ।
অন্যদিকে ফু শুয়াংয়ের অর্থ ‘দ্বিগুণ আশীর্বাদ’। ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর জন্ম নেওয়া এই পান্ডার মাথার ওপর ছোট একটি লোমের গুচ্ছ ও কিছুটা উঁচু কপাল রয়েছে। খাবার খুঁজে বের করতেও সে বেশ দক্ষ বলে জানিয়েছে চীনের জাতীয় বন ও তৃণভূমি প্রশাসন।
চেংদু গবেষণা কেন্দ্র বয়স, স্বাস্থ্য, জিনগত বৈশিষ্ট্য ও স্বভাব বিবেচনা করে পান্ডা দুটিকে বেছে নেয়। কেন্দ্রটির উপপরিচালক লি মিংসি চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিকে বলেন, পান্ডা দুটির স্বভাব শান্ত এবং তারা যেন একে অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা স্বাভাবিকভাবে প্রজনন করতে পারবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের ‘পান্ডা কূটনীতি’
চীনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্ক জোরদারে বৃহদাকার এই পান্ডাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই কূটনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শি জিনপিং সম্প্রতি বলেছেন, প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে পান্ডাগুলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করেছে।
১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পান্ডা পাঠানোর এই ধারার সূচনা হয়। সেই সময় চীনের নেতা মাও সেতুং যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি পান্ডা উপহার দিয়েছিলেন।
আটলান্টাগামী পিং পিংয়ের নামের সঙ্গেও পান্ডা কূটনীতির ইতিহাসের যোগ রয়েছে। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে মাও সেতুং যে প্রথম পান্ডা উপহার দিয়েছিলেন, তার নামও ছিল পিং পিং।
এর আগে ২০২৪ সালের জুনে দুই দশকেরও বেশি সময় পর নতুন করে দুটি পান্ডা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর অনুমতি দেয় চীন। পান্ডা দুটি সান দিয়েগোতে যায়। একই বছরের শেষ দিকে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল জুতেও আরও এক জোড়া পান্ডা পাঠানো হয়।
আটলান্টার চিড়িয়াখানায় এর আগেও পান্ডা ছিল। লুন লুন ও ইয়াং ইয়াং নামের এক জোড়া পান্ডা সেখানে ২০০৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সাতটি শাবকের জন্ম দেয়। পরে তাদের চেংদুতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে শনিবার আটলান্টার ওই চিড়িয়াখানায় নতুন সদস্যদের অভ্যর্থনায় ‘পিং পিং ও ফু শুয়াংয়ের ভবিষ্যৎ বাড়ি’ লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত শিয়ে ফেংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পান্ডা দুটির ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘আমাদের দুই তুলতুলে তারকাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হোন।’