✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৮, | ০০:৫১:৪২ |যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে পণ্য পরিবহন বাড়াচ্ছে ইরান। তবে সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে স্থলপথে বাণিজ্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে দেশটির সীমান্তে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ ট্রাকজট, বাড়ছে পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য পৌঁছাতে লাগছে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময়।
তুরস্কের গুরবুলাক সীমান্ত দিয়ে ইরানে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকের সারি এখন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। যে পথ পাড়ি দিতে আগে যেখানে প্রায় এক দিন সময় লাগত, এখন সেখানে এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যাচ্ছে।
তুরস্কের পরিবহনকারীদের সংগঠন জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষার সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সীমান্তে দীর্ঘ সারি শুধু একটি প্রবেশপথের সমস্যা নয়; এর মাধ্যমে ইরানের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় ধরনের পরিবর্তনের চিত্রও ফুটে উঠছে।
সমুদ্রপথের ওপর চাপ
যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৮০ শতাংশের বেশি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সমুদ্রবন্দর দিয়ে পরিচালিত হতো। কিন্তু সামুদ্রিক রুটে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় তেহরান এখন বিকল্প হিসেবে স্থলসীমান্তগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।
বিশেষ করে তুরস্কের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ গুরবুলাক হয়ে ইরানে পণ্য প্রবেশ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইরানের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ মাসে গুরবুলাক সীমান্ত দিয়ে আমদানি ২৫০ শতাংশ বেড়েছে।
এর অর্থ হলো, সমুদ্রপথে যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা সম্ভব ছিল, তার একটি অংশ এখন সড়কপথে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ফলে সীমান্ত ও সড়ক অবকাঠামোর ওপর দ্রুত বাড়ছে চাপ।
স্থলপথে বাড়ছে যানজট
তবে সমুদ্রপথ থেকে স্থলপথে বাণিজ্য সরিয়ে নেওয়া সহজ সমাধান নয়। ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলো যে পরিমাণ পণ্য একসঙ্গে পরিবহন করতে পারে, দেশটির সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামোর সক্ষমতা তার সঙ্গে তুলনীয় নয়।
ফলে সীমান্তে ট্রাকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষার সময়ও দীর্ঘ হচ্ছে। সীমান্ত পার হতে দীর্ঘ সময় লাগায় পণ্য পরিবহনের গতি কমছে এবং সরবরাহব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে নতুন জটিলতা।
গুরবুলাক সীমান্তে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রাকের সারি সেই চাপেরই দৃশ্যমান উদাহরণ। আগে যে যাত্রা এক দিনের মধ্যে শেষ করা সম্ভব ছিল, এখন সেটি শেষ করতে প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে।
শেষ পর্যন্ত চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর
স্থলপথে বাণিজ্য স্থানান্তরের আরেকটি বড় প্রভাব হচ্ছে ব্যয় বৃদ্ধি। সমুদ্রপথের তুলনায় দীর্ঘ স্থলযাত্রায় জ্বালানি, পরিবহন, শ্রম ও সীমান্তে অপেক্ষার খরচ বাড়ে। সীমান্তে ট্রাক আটকে থাকলে পণ্য পরিবহনের সময়ও বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ীদের জন্য এসব অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ সমুদ্রপথের সীমাবদ্ধতার কারণে যে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় তৈরি হচ্ছে, তার একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বাণিজ্য এখন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উত্তর ও পশ্চিমের স্থলসীমান্তের দিকে পণ্য পরিবহন সরানো হচ্ছে। কিন্তু স্থলপথের সীমিত সক্ষমতা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের গুরবুলাক সীমান্তে দীর্ঘ ট্রাকের সারি শুধু একটি সীমান্তজটের চিত্র নয়; এটি যুদ্ধের কারণে ইরানের বাণিজ্যপথ কীভাবে বদলে যাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের অর্থনৈতিক মূল্য কতটা হতে পারে, তারও একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। সূত্র: আল-জাজিরা