✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৮, | ০০:৪৫:২৪ |কন্যা দিবস উপলক্ষে মেয়েদের প্রতিদিনের নিরাপত্তাহীনতা ও ভয় নিয়ে কথা বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মেয়েদের বাইরে চলাফেরার সময় যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, সেসব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
কৃতির মতে, এমন একটি সমাজ প্রয়োজন, যেখানে মেয়েরা ভয় বা শঙ্কা ছাড়াই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবেন।
কন্যা দিবসের পোস্টে মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন কৃতি। তিনি বলেন, কোনো মেয়ে বাড়ি ফেরার পথে বুঝতে পারেন, কয়েকজন পুরুষ তাকে অনুসরণ করছে এমন পরিস্থিতি কল্পনা করলেই বোঝা যায়, নিরাপত্তা নিয়ে মেয়েদের কতটা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হয়।
রাতে একা বাড়ি ফেরার সময় বারবার পেছনে তাকানো কিংবা ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার চিন্তাও অনেক মেয়ের পরিচিত অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তার জন্য মেয়েদের বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন কৃতি। পরিবারের সদস্য বা বন্ধুর সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করা, হেঁটে যাওয়ার পরিবর্তে ক্যাব নেওয়া কিংবা বাড়ি ফেরার সময় কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলা, এসব সতর্কতা অনেক মেয়ের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
কৃতির মতে, এসব বিষয়কে নারীদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একজন নারীকে বাইরে বের হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্তে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে ভাবতে হবে এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া দরকার।
তিনি এমন একটি দিনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন, যেদিন কোনো মেয়ে রাতে একা বাড়ি ফিরতে পারবেন, সন্ধ্যার পর পার্কে বসতে পারবেন কিংবা নিজের পছন্দের পোশাক পরে বাইরে যেতে পারবেন। গণপরিবহন ব্যবহারের সময়ও যেন নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হতে না হয়, সেই পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি।
জনসমাগমপূর্ণ স্থানেও নারীদের অতিরিক্ত সতর্ক হয়ে নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হবে না, এমন সমাজের প্রত্যাশা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
কন্যা দিবসের পোস্টে পরিবারের সঙ্গে মেয়েদের যোগাযোগের একটি পরিচিত অভ্যাসের কথাও তুলে ধরেছেন কৃতি। কোথাও একা যাওয়া বা রাতে বাইরে থাকার পর অনেক মেয়েই পরিবারকে ফোন করে জানান, ‘পৌঁছে গেছি’। নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছেন, এ কথা জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করতেই সাধারণত এমন ফোন বা বার্তা দেওয়া হয়।
কৃতির আশা, এমন একটি সময় আসবে যখন কোনো মেয়েকে একা কোথাও যাওয়ার পর পরিবারকে ফোন করে নিজের নিরাপত্তার খবর দিতে হবে না। কারণ তখন বাইরে চলাফেরা নিয়ে ভয় বা অনিশ্চয়তা থাকবে না।