✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৮, | ০০:৪৪:১১ |অধিনায়কত্বের প্রতীক হিসেবে হাতে আর্মব্যান্ড থাকাটাই নেতৃত্বের একমাত্র পরিচয় নয়। মাঠের লড়াইয়ে সতীর্থদের উদ্দীপ্ত করা এবং কঠিন সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়াই আসল, বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলির চোখে হামজা চৌধুরী ঠিক তেমনই একজন নেতা।
ইংলিশ ক্লাব শেফিল্ডে খেলা হামজাকে ড্রেসিংরুম, টিম হোটেল কিংবা মাঠ সব জায়গাতেই নেতৃত্বের গুণসম্পন্ন একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখেন ডুলি।
আসিয়ান কাপে আগামীকাল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে দলের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হামজার প্রশংসা করেন ডুলি। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে দলের নিষ্প্রভ মানসিকতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন জার্মান এই কোচ।
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সেই মানসিকতা বদলে খেলোয়াড়দের আরও আগ্রাসী ও লড়াকু ফুটবল খেলতে দেখতে চান ডুলি। আর দলের মধ্যে সেই জেদি মনোভাব তৈরি করার ক্ষেত্রে হামজাকে বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ছিল জামাল ভূঁইয়ার হাতে। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতে দলের নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য কেউই এগিয়ে আসতে চাননি বলে জানান ডুলি। এমনকি অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার সোহেল রানাও শুরুতে অধিনায়ক হতে রাজি ছিলেন না।
পরে যখন দেখলেন দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ দায়িত্ব নিতে চাইছেন না, তখন নিজেই কোচের কাছে গিয়ে আর্মব্যান্ড পরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ডুলি বলেন, ‘কেউই অধিনায়ক হতে চায়নি। এমনকি সোহেলও প্রথম দিকে রাজি ছিল না। পরে সে আমার কাছে এসে জানাল, যদি আর কেউ দায়িত্ব নিতে না চায়, তবে সে নিজেই এই বোঝা কাঁধে নিতে প্রস্তুত এবং আর্মব্যান্ড পরতে চায়।’
তবে ডুলির কাছে হামজার নেতৃত্বের জন্য আর্মব্যান্ডের কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁর মতে, হামজার নেতৃত্ব শুধু মাঠের ৯০ মিনিটে সীমাবদ্ধ নয়। সতীর্থদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া, প্রতিটি বলের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসী শরীরী ভাষায় একজন নেতার ছাপ স্পষ্ট।
ডুলি বলেন, ‘হামজার নেতা হওয়ার জন্য অধিনায়কের আর্মব্যান্ডের কোনো প্রয়োজন নেই। ড্রেসিংরুম, হোটেল থেকে শুরু করে গ্যালারি, সব জায়গাতেই সে একজন নেতা।’