✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৭, | ০০:০৬:৪৬ |ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী তাঁর বয়স ১২৩ বছর। নাম আব্বাস প্রামানিক। তবে পরিবারের দাবি, তাঁর বয়স আরও বেশি। তবে বয়সের এই দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিয়মিত নামাজ ও কোরআন তেলাওয়াত করেন তিনি। পরিবারের দাবি, এত বয়সেও চশমা ছাড়াই খালি চোখে কোরআন শরীফ পড়তে পারেন আব্বাস। বয়সের ভারে কিছুটা কাহিল হলেও চোখের দৃষ্টি এখনও ভালো রয়েছে তাঁর।
আব্বাস প্রামানিকের বাড়ি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। কর্মজীবনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলে সন্তানের বাবা তিনি। পরিবার জানায়, ৬০ টাকা বেতনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন আব্বাস প্রামানিক। পাশাপাশি এলাকায় বিনামূল্যে ছেলে-মেয়েদের কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘ জীবনে দেখেছেন ব্রিটিশদের শাসন, পাকিস্তানি আমল আর ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। তবে বয়সের ভারে শত বছরের অনেক স্মৃতিই এখন তাঁর মনে নেই। চোখে স্পষ্ট দেখতে পেলেও কানে কম শোনেন তিনি। বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল তাঁর প্রিয় খাবার।
একসময় অনেক অর্থ-সম্পদ থাকলেও এখন ভাঙা একটি ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে তাঁকে। নাতি-বউয়েরা করেন সেবা-যত্ন। নিজের কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন তিনি। সহযোগিতা ছাড়াই আব্বাস প্রামানিক নিজেই কাপড় পরিধান করেন। গাড়িতে চড়া বিলাসিতা মনে করতেন, তাই জীবনে পায়ে হেঁটেই চলাচল করেছেন। ওঠেননি কোনো যানবাহনে।
নাতি শিফকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটার আইডি কার্ডে যে বয়স রয়েছে, তার চেয়েও বেশি বয়স দাদার। তিনি বিলাসিতা পছন্দ করেন না। এ কারণে জীবনে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেছেন। একজন ধার্মিক মানুষ, কখনও কারও অন্যায় করেননি। সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন দাদা। বর্তমানে তাঁর বয়সের কারণে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না।’
মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ‘পাঁচ বছর বয়সে আমার মা মারা যান। এরপর বাবার কাছে বড় হয়েছি। আমরা কখনও বাবাকে কারও অন্যায় করতে দেখিনি। তিনি সৎভাবে চলাফেরা করেছেন। কোথাও গেলে পায়ে হেঁটে যেতেন, গাড়িতে উঠতেন না। খুব স্বাভাবিকভাবে জীবন চালিয়েছেন। ভাইয়ের ছেলেদের কাছে বাবা থাকেন, তারাই দেখাশোনা করেন। মাঝে মধ্যে বাবাকে দেখতে যাই, তাঁর প্রিয় খাবার দিয়ে যাই। এত বছর বয়সেও আমার বাবা চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন। আমরা তাঁর সন্তান হয়ে চোখে কিছুটা আশ্চর্য দেখতে পাই।’
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমদা আফেরাজ জানান, আব্বাস প্রামানিক গুরুদাসপুর উপজেলার প্রবীণ একজন ব্যক্তি। বয়সের ভারে তিনি তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁর চলাচলের সুবিধার্থে ঘরের সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে খুবিজপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় তাঁকে সহযোগিতা করে আসছে।