✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৭, | ০০:০৪:৪৩ |সান সেবাস্টিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে চলচ্চিত্রশিল্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট ও চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন অস্কারজয়ী ফরাসি অভিনেত্রী মারিয়ন কোতিয়ার। মর্যাদাপূর্ণ দোনেস্তিয়া অ্যাওয়ার্ড জয়ের পাঁচ বছর পর নিজের নতুন চলচ্চিত্র ‘৭এইচ৪০ সে জুর-লা’-এর বিশ্ব প্রিমিয়ারে উৎসবে ফিরে এসে তিনি ওটিটি বা স্ট্রিমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের দাপট এবং রুপালি পর্দায় এআই প্রযুক্তি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এআই প্রযুক্তির প্রসার ঘটলেও বর্তমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কাল্পনিক বা ভার্চুয়াল অভিনেতারা যে অত্যন্ত নিষ্প্রাণ এবং তাদের অভিনয় ‘আলুর মতো’ বলে রসিকতা করেন তিনি।
আসল ও কৃত্রিম অভিনেতার তফাৎ বোঝা এখনো বেশ সহজ মন্তব্য করে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এ অভিনেত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়ন কোতিয়ার বলেন, যেদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কোনো অভিনেতার অভিনয় দেখে আমার ভেতরে আবেগ অনুভূতি তৈরি হবে, সত্যি বলতে সেদিন আমি ভীষণ ভয় পেয়ে যাব। আপাতত ওদের অভিনয় দেখে মনে হয় যেন আলু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, আর এটাই আমাকে স্বস্তি দিচ্ছে। তবে আমি ভাবি, কোনো দিন কি সত্যিই তেমন কিছু ঘটবে? কোনো দিন কি এআই অভিনেতার কাছে আমি এভাবে বোকা বনে যাব? স্বীকার করতেই হবে, বিষয়টা আমাকে ভাবায় এবং কিছুটা শঙ্কিতও করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে মারিয়নের এই স্পষ্ট অবস্থান মূলত হলিউড তারকা টম ক্রুজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গেও সুর মেলায়। সম্প্রতি ‘মিশন ইম্পসিবল’ খ্যাত এই তারকা বাফটার সঞ্চালক এডিথ বোম্যানের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে মানুষের নিজস্ব সৃজনশীলতার একটি অনন্য ও অলঙ্ঘনীয় স্থান রয়েছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইন্ডাস্ট্রির বড় অংশ হয়ে উঠলেও দর্শকরা সব সময় মানুষের সত্যিকারের অভিনয় এবং প্রকৃত শিল্পীদের কাজকেই প্রাধান্য ও কদর দেবে।
সান সেবাস্টিয়ান উৎসবে পরিচালক নিকোল গার্সিয়ার পরিচালিত সিনেমা ‘৭এইচ৪০ সে জুর-লা’-এর প্রিমিয়ারে যোগ দিয়েছেন মারিয়ন। ছবিটি উৎসবের সেরা সম্মাননা ‘গোল্ডেন শেল’-এর দৌড়ে লড়াই করছে, যেখানে মোট ১৭টি চলচ্চিত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ছবির মূল উপজীব্য হলো— এলিস নামের এক নারী এক শান্ত মফস্বল শহরে এসে স্থানীয় ক্যাফেতে কাজ শুরু করেন এবং সহজেই অন্যের সাধারণ জীবনে মিশে যান। তবে তার আগমন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, কারণ কাছেই গ্যারেজে কর্মরত তরুণ মেকানিক মিলোর টানেই সেখানে এসেছেন তিনি। মিলোর কাছে এলিস একজন অচেনা মানুষ হলেও, এলিসের কাছে মিলো সেই ফেলে আসা অতীতের বন্ধন। পুরোনো চাপা উত্তেজনা ও টানাপোড়েন যখন আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন দুজনেই এক কঠিন মোড়ে এসে দাঁড়ায়—বহু বছর আগে ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক কি ফের জোড়া লাগানো সম্ভব?
এই চলচ্চিত্রে মারিয়ন কোতিয়ারের সাথে অন্যান্য মুখ্য ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন থিওডোর পেলরিন, আর্তুস, লরে কালামি, অ্যালেক্সিস মানেন্তি, অ্যান ব্রোশে, এরিক এলমসনিনো এবং চার্লস বার্লিং।
সূত্র: রয়টার্স, এনডিটিভি