বাংলা ও হিন্দি সংগীত জগতের এক কালজয়ী অধ্যায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। ১৯৮৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, ৬৯ বছর বয়সে কলকাতার একটি নার্সিংহোমে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এই মহান শিল্পী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রয়াণ দিবসে সুরের সেই অতুলনীয় ঐশ্বর্যকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
১৯২০ সালের ১৬ জুন বারাণসীতে (তৎকালীন কাশী) জন্ম নেওয়া হেমন্ত মুখোপাধ্যায় শুধু এক অনন্য কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একাধারে সফল সংগীত পরিচালক ও চলচ্চিত্র প্রযোজক। ১৯৪০-এর দশকে প্রখ্যাত সুরকার সলিল চৌধুরীর সুরারোপিত ‘গাঁয়ের বধূ’ ও ‘রানার’ গানের মধ্য দিয়ে বাংলা আধুনিক গানের ধারায় এক নতুন যুগের সূচনা করেন তিনি। তার গুরুগম্ভীর ব্যারিটোন কণ্ঠ রবীন্দ্রসংগীতকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল।
হিন্দি চলচ্চিত্র জগতেও ‘হেমন্ত কুমার’ নামে তার পদচারণা ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। ১৯৫৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নাগিন’ চলচ্চিত্রের কালজয়ী সংগীত পরিচালনা তাকে জাতীয় স্তরে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসায়। সুরের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও তিনি অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন, যার অন্যতম উদাহরণ মৃণাল সেনের পরিচালনায় কালজয়ী ছবি ‘নীল আকাশের নিচে’ (১৯৫৯)।
সংগীতে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের ‘পদ্মশ্রী’ সম্মাননা, শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দুবার ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’ এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ‘ডি.লিট’ উপাধিতে ভূষিত হন। মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন আগে, ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার গ্রহণ করতে। ঢাকা থেকে কলকাতায় ফেরার পরপরই সুরের ভুবনকে স্তব্ধ করে বিদায় নেন এই কালজয়ী শিল্পী।
এ জাতীয় আরো খবর..