✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৪, | ০১:১৮:৫৪ |নেত্রকোনায় একটি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এক প্রভাষকের ‘আপত্তিকর আচরণের’ দুটি ভিডিও এক মাস পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রভাষকের কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নিয়ে তাঁকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে নেত্রকোনা জেলা শহরের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ আলিয়া কামিল মাদ্রাসায়। গত ১১ ও ১৭ আগস্ট মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ঘটনাগুলো ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হক বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন। ওই শিক্ষার্থীর পরিচয়ও জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দিনের বেলায় মাদ্রাসার একটি অফিস কক্ষে ওই প্রভাষক এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করছেন। অফিস কক্ষে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনাগুলো ধারণ হয়। দুটি দিনের দুটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।
মাদ্রাসার কয়েকজন নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার পরও এমন ঘটনা ঘটায় তারা উদ্বিগ্ন। তারা জানান, ক্যামেরার ফুটেজ না থাকলে ঘটনাটি হয়তো জানাই যেত না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে মাদ্রাসায় নারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান।
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর তদন্ত কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে ঘটনার পর ব্যবস্থা নিতে প্রায় এক মাস সময় লাগার বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন বলেন, ২০ আগস্ট বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত প্রভাষকের কাছ থেকে পদত্যাগপত্র নেওয়া হয়েছে। তিনি এটিকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আরও একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে এ ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।