✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২৪, | ০১:১৭:৩৭ |ম্যানচেস্টার সিটিতে এক বছরেরও বেশি সময় কাটানোর পর সম্প্রীতি সৌদি আরবের ক্লাব আল-কাদসিয়ায় যোগ দেন নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডার তিজানি রেইন্ডার্স। গত বছরের জুনে আনুমানিক ৪৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড (৫৪.২ মিলিয়ন ইউরো) ট্রান্সফার ফিতে এসি মিলান থেকে সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন রেইন্ডার্স। ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ ও লিগ কাপও জিতেছেন।
তবে সৌদি আরবে পাড়ি জমানোর পেছনের কারণটি গোপন করার কোনো চেষ্টাই করেননি এই মিডফিল্ডার। তিনি ৬১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আল-কাদসিয়া ক্লাবে যোগ দেন। অর্থের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রেইন্ডার্স অত্যন্ত খোলামেলাভাবেই তার মতামত জানান।
রেইন্ডার্স বলেন, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পর আমি আর কোনো কাজ করতে চাই না। তিনি স্বীকার করেন, ম্যানচেস্টার সিটিতে তার যা আয় ছিল, তাতেই হয়তো তিনি সেই স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন পেতেন। কিন্তু সৌদি আরবের চুক্তিটি আরও বড় কিছু দিচ্ছে, তার পরিবারের প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য আর্থিক নিরাপত্তা।
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যদি আমার নাতি-নাতনিরাও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারে, তবে আমি কেন এমনটা করব না? শোনা যায়, রেইন্ডার্স অত্যন্ত লাভজনক একটি চুক্তি পেয়েছেন। সূত্র মতে, এই চুক্তির মূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরো। প্রিমিয়ার লিগে ব্যর্থ হওয়া কোনো খেলোয়াড়ের জন্য এটি সত্যিই বিশাল অঙ্কের প্রাপ্তি।
আল-কাদসিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে, রেইন্ডার্স তাদের সাথে পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এ প্রসঙ্গে এই ফুটবলার বলেন, হ্যাঁ, অর্থ একটি বড় কারণ ছিল ঠিকই, তবে সিটি থেকে তার এই আকস্মিক বিদায়ের পেছনে অর্থই একমাত্র কারণ ছিল না।
রেইন্ডার্স একজন ‘ডাইনামিক’ বা বহুমুখী মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতে চেয়েছিলেন। তিনি রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে খেলবেন। কিন্তু তিনি অনুভব করছিলেন, তাকে ক্রমশ কেবল আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতেও একই চিত্র দেখে তিনি অন্য কোনো ক্লাবের কথা ভাবার সিদ্ধান্ত নেন।
এরপর আল-কাদসিয়ার কোচ ব্রেন্ডন রজার্সের সাথে আলোচনার পর তিনি নিশ্চিত হন সৌদি আরবে যাওয়ার অর্থই এই নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক প্রাপ্তির বিষয়টি তার সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সহজ করে দিয়েছিল, তা স্বীকার করতে রেইন্ডার্সের কোনো দ্বিধা নেই।
তার কাছে এটি ছিল কেবল নিজের ভবিষ্যৎ নয়, বরং পরিবারের প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার একটি সুযোগ।