✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-২১, | ২৩:৫২:৪৭ |ঋতু বদলের এই সময়ে জ্বর, ডেঙ্গু আর মৌসুমি ফ্লুর প্রকোপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ওষুধের পাশাপাশি সঠিক খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ শরীরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলে। বিপরীতে, ভুল খাদ্যাভ্যাস শারীরিক দুর্বলতাকে দীর্ঘায়িত করতে পারে।
জ্বরের সময় শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়া দ্রুত হওয়ায় পানি ও শক্তি দ্রুত ক্ষয় হয়। ডেঙ্গু বা ফ্লুর মতো সংক্রমণে ক্ষুধামন্দা দেখা দিলেও এ সময় পুষ্টি ও তরলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।
পানিশূন্যতা দূর ও তরল গ্রহণ
রোগীর জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো পর্যাপ্ত তরল নিশ্চিত করা। বারবার অল্প অল্প করে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। জ্বরের সঙ্গে ডায়রিয়া থাকলে ওরস্যালাইন পানিশূন্যতা ঠেকাতে কার্যকর। ডাবের পানি শরীরে প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া আদা-লেবুর চা সর্দি-কাশির অস্বস্তি কমায় এবং হালকা গরম সবজি বা মুরগির স্যুপ শরীরে শক্তি জোগায়। তবে চা, কফি বা কোমল পানীয় পানিশূন্যতা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে তা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সহজপাচ্য খাবার ও প্রোটিন
শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে পাতলা খিচুড়ি, জাউ ভাত বা সাদা ভাতের মতো হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া উচিত। প্রোটিনের উৎস হিসেবে পাতলা মুগ ডাল, সেদ্ধ ডিম ও দই বেছে নেওয়া যেতে পারে। দইয়ের প্রোবায়োটিক হজমেও সাহায্য করে।
ভিটামিন সি ও ফলমূল
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কমলা, মাল্টা ও লেবুর মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খাওয়া জরুরি। পাকা পেঁপে ও কলা যেমন সহজপাচ্য, তেমনি ডালিম দুর্বলতা কাটাতে সহায়তা করে।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার হজমে চাপ ফেলে। বাড়তি সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কাঁচা বা অর্ধসেদ্ধ খাবার এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত বা কার্বনেটেড পানীয় খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা
ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট বাড়াতে পেঁপে পাতার রস বা ডালিমের ওপর অনেকে নির্ভর করেন। তবে চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানান, এগুলো সামগ্রিক পুষ্টিতে সহায়ক হলেও কোনো প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। তাই মূল চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এগুলোর ওপর নির্ভর করা যাবে না।
স্বাভাবিকভাবে রুচি কমলে জোর না করে অল্প অল্প করে বারবার তরল বা আধা-তরল খাবার দিতে হবে। শিশু, গর্ভবতী নারী ও প্রবীণদের খাদ্যতালিকা তৈরিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এছাড়া রোগী খাবার বা তরল একেবারেই খেতে না পারলে, ক্রমাগত বমি হলে, প্রস্রাব কমে গেলে বা অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়লে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।