✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-১৯, | ১৮:৩৫:৩৭ |যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) ২৪তম ‘কাউড্রে লেকচার’ প্রদান করেছেন। ২০০৮ সালে আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু এবং ২০২১ সালে স্টিফেন ফ্রাইয়ের পর সুনাক তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
সন্ধ্যাবেলার এই আয়োজনে এমসিসি সদস্য এবং কাউড্রে পরিবারের সদস্যসহ বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি লর্ডসের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমেও দর্শকরা বক্তৃতাটি উপভোগ করেন। সুনাক তার বক্তৃতায় যুক্তি দেন, ক্রিকেট জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা কেবল পাশাপাশি বসবাস করতে পারি না, আমাদের একত্রে বসবাস করতে হবে। আর এর অর্থ হলো খেলাধুলাতেও একে অপরের সাথে যুক্ত থাকা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ব্রিটেনের সফল বহু-জাতিভিত্তিক গণতন্ত্র বর্তমানে ‘বাস্তব হুমকির’ মুখে রয়েছে।
তিনি ক্রিকেটকে ‘সত্যিকারের জাতীয় খেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির কর্মসূচি ও ‘ক্রিকেট ডোম’ (ইনডোর ক্রিকেট সুবিধা)-এর জন্য নতুন করে সমর্থনের তাগিদ দেন। যাতে প্রতিটি খেলার মাঠের প্রতিটি শিশু ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতে পারে।
এই খেলার প্রতি আজীবন অনুরাগ এবং এর সাথে জড়িত নানা স্মৃতির কথা উল্লেখ করে সুনাক ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ সন্ধ্যায় আমি কোনো সাবেক খেলোয়াড়ের কর্তৃত্ব নিয়ে আপনাদের সামনে কথা বলছি না, বরং কথা বলছি একজন আজীবন ভক্তের ভালোবাসা নিয়ে। এরপর তিনি কাউন্টি গ্রাউন্ডে হ্যাম্পশায়ারের খেলা দেখার প্রথম অভিজ্ঞতা, ডাউনিং স্ট্রিটের বাগানে ইংল্যান্ড দলের সাথে ক্রিকেট খেলা এবং লর্ডসে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিজের বড় মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার স্মৃতিচারণ করেন।
এমসিসি-র প্রেসিডেন্ট এড স্মিথ বলেন, ঋষি দীর্ঘকাল ধরেই ক্রিকেটের একজন উৎসাহী সমর্থক এবং তার চিন্তাশীল দৃষ্টিভঙ্গি এমসিসি কাউড্রে লেকচারটিকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। জাতীয় জীবনে ক্রিকেটের ভূমিকা এবং মানুষকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে এই খেলাটি কীভাবে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি এক অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
ঋষির বক্তৃতার পর, লন্ডন স্পিরিট ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রধান কোচ এবং ক্রিকেট বিষয়ক পরিচালক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও মো বোবাট এমসিসির চেয়ারম্যান মার্ক নিকোলাসের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। তারা তাদের ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলো, বিভিন্ন ভূমিকায় সাফল্যের গল্প, ‘দ্য হান্ড্রেড’ ও আইপিএল-এর মধ্যকার পার্থক্য এবং ‘লন্ডন স্পিরিট’ অভিযান নিয়ে নিজেদের ভাবনা ও মতামত তুলে ধরেন।
লর্ড কাউড্রি অফ টনব্রিজের স্মরণে আয়োজিত ‘এমসিসি কাউড্রি লেকচার’ এখন ক্রিকেট ক্যালেন্ডারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বর্তমান ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। ২০০১ সালে রিচি বেনো এই বক্তৃতামালার সূচনা করেছিলেন এবং অতীতে যারা এই বক্তৃতা দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্লাইভ লয়েড, ইমরান খান, কুমার সাঙ্গাকারা ও মাইক ব্রিয়ারলি।