✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৮, | ২০:৪২:৩১ |মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ঐক্য ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একে অপরের আরও কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রহমান বিন আবদুল-মহসেন আল-ফাদলির সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ এই মন্তব্য করেন।
যৌথ নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত ৭ আগস্ট মক্কায় অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে পাকিস্তান এবং সৌদি আরব উভয়কেই এখন তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে একটি শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছেছে। এতে উভয় পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্বে রূপান্তরের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক ও কৃষিগত সম্পর্ক জোরদার করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ উভয় পক্ষের মধ্যে ‘গঠনমূলক সম্পৃক্ততা’ এবং বিশেষ করে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে কৃষি পণ্য রপ্তানির বিষয়ে নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া প্রযুক্তি ও গবেষণা-উন্নয়নের ব্যবহার এবং পানিসম্পদের আরও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তানে কৃষিজ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, ‘এই অংশীদারিত্বের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে’ আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের কৃষি বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই রিয়াদ সফর করবে। অন্যদিকে সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রহমান বিন আবদুল-মহসেন আল-ফাদলির কৃষি, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
আল-সাফা প্রাসাদে আয়োজিত এক শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তাদের যেকোনো একজনের ওপর হওয়া আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার ক্ষমতা প্রদান করে। পাশাপাশি, এটি একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে সম্মিলিত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের ‘যৌথ অঙ্গীকার’ প্রতিফলিত করে।
পাকিস্তান জানিয়েছে, এই চুক্তির মৌলিক নীতিগুলো মেনে চলতে ইচ্ছুক অঞ্চলের যেকোনো দেশের জন্য এটি ‘উন্মুক্ত’। অন্যদিকে গতকাল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেলে দেশটি এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।
সূত্র: ডন: