✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৭, | ১৪:২৫:০৪ |নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা এবার বড় পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে দেশটির তরুণ প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহকে। মাত্র পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া শাহ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশটির প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর আধিপত্য ভেঙে ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন তাঁকেই সামলাতে হচ্ছে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা।
৩৬ বছর বয়সী বালেন শাহ মার্চে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। জাতীয় রাজনীতিতে শুদ্ধি আনার পাশাপাশি নেপালের তরুণদের সুযোগের অভাবসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অভিযোগ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নেপালের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের বড় ভূমিকা রয়েছে, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শাহ জানান, রাসুয়া এলাকার ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি লেখেন, এই অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে অনেক মানুষ ও শিশু গভীর কষ্টের মধ্যে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অসহনীয় সময়ে পুরো নেপাল সরকার ও দেশের মানুষ তাঁদের পাশে রয়েছে। বন্যায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাগরিকদের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করেন তিনি।
ভয়াবহ এই বন্যা মোকাবিলায় শাহকে এখন নেপালের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গে সমন্বয় করতে হতে পারে। উত্তরে চীন এবং দক্ষিণে ভারতের সঙ্গেও বন্যার প্রভাব পড়েছে।
তবে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শাহকে এবার কূটনৈতিকভাবে সতর্ক অবস্থান নিতে হতে পারে। এর আগে ভারত ও চীনকে ঘিরে তাঁর জাতীয়তাবাদী ও কঠোর অবস্থান বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
২০২৩ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালে চীনে তাঁর একটি নির্ধারিত সফর বাতিল করেছিলেন শাহ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই সময় চীন নেপালের ২০২০ সালের সংশোধিত রাজনৈতিক মানচিত্রকে স্বীকৃতি না দিয়ে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিল। নেপালের ওই সংশোধিত মানচিত্রে হিমালয়ের কিছু বিতর্কিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
রাজনীতির প্রচলিত ধারা ভেঙে তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উঠে আসা বালেন শাহের জন্য এই বন্যা তাই শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বের অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: সিএনএন