✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

ভয়ংকর করুণ দশায় পশ্চিমতীরের অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিরা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২১, | ১৩:০৮:৩২ |

অধ্যুষিত পশ্চিম তীরের কুসরা শহরে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের টানা ১২ দিনের অবরোধ এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়েছেন অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। বাড়িঘর ছেড়ে না যাওয়ার কারণে শিশুসহ  প্রায় ১৫ জন ফিলিস্তিনি বর্তমানে তাদের নিজস্ব বাসস্থানেই কার্যত বন্দি অবস্থায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে স্থানীয় পৌরসভা বা আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর পাঠানো খাবারও তাদের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

অবরুদ্ধ একটি বাড়িতে মা ও ভাইকে নিয়ে অবস্থানরত ৩৫ বছর বয়সী আয়েশা হাসান জানান, তাদের অবস্থা দিন দিন চরম খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারা মূলত নিজেদের দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত বাড়িশূন্য করে চলে যেতে রাজি না হওয়ায় বসতি স্থাপনকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ তাদের জন্য সামান্য কিছু খাবার পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও সেগুলো ঘরের বাইরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকার ফলে অধিকাংশ খাবারই নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে তাদের কাছে আর কোনো খাদ্য অবশিষ্ট নেই।

কুসরা শহরের মেয়র আব্দুল-আজিম ওয়াদি জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য সরবরাহ পৌঁছানোর জন্য তারা জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা ওএইচএ-এর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক অধিনায়কেরা নানাবিধ অজুহাতে শহরটিতে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। এমনকি ফিলিস্তিনি-আমেরিকান নাগরিক লুয়াই আবু রিদার মালিকানাধীন একটি বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ইসরায়েলি সেনারা পৌর প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে দেয় এবং কেবল কতিপয় সাংবাদিককে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক ফিলিস্তিনি মা ২৮ বছর বয়সী রুকাইয়া হাসান জানান, তাদের বাড়িটি ইসরায়েলি বাহিনী দখল করে সামরিক চৌকি বানানোর পর তারা বাধ্য হয়ে আবু রিদার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অবরুদ্ধ হওয়ার শুরুতেই উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বিদ্যুৎ এবং পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পুনরায় সংযোগ স্থাপন করতে গেলে সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়, আর সেখানে উপস্থিত ইসরায়েলি সেনারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। শহরটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রুদ্ধদ্বার সামরিক অঞ্চল ঘোষণা করা হলেও সেনারা কোনো বসতি স্থাপনকারীকে সরিয়ে দেয়নি বা গ্রেফতার করেনি বরং সেনাসদস্যদের উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সাথে প্রার্থনা করতে এবং পানীয় ভাগ করে নিতে দেখা গেছে।

কুসরায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি যৌথ শান্তি সংগঠন কমব্যাট্যান্টস ফর পিস অবিলম্বে এই নিপীড়ন বন্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতি ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে ইসরায়েল সরকার সমর্থিত ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের জন্য পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে। টানা কয়েক মাসের সহিংসতা ও ১২ দিনের বন্দিদশায় সবচেয়ে বেশি মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে শিশুরা। 

সূত্র: মিডলইস্ট আই

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..