✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

আপনারা আনন্দ দেখেননি, শুধু সমালোচনাই করেছেন : ইনফান্তিনো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৮, | ১১:৫০:৩১ |

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে ওঠা নানা সমালোচনার জবাবে সরব হয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সমালোচকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, তারা এতটাই সমালোচনায় ব্যস্ত ছিলেন যে বিশ্বকাপের আনন্দ, ঐক্য ও সফলতা দেখতেই পাননি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক খোলা চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ ছিল আনন্দ, নিরাপত্তা, ঐক্য এবং একসঙ্গে উদযাপনের এক অনন্য উদাহরণ। স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই আসর বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে এক সুতোয় গেঁথেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইনফান্তিনো লেখেন, ‘আপনারা ঘৃণা আর সমালোচনায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে পুরো বিষয়টাই দেখতে পাননি। যারা কলম, কাগজ কিংবা পর্দার আড়াল থেকে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের বলতে চাই আপনারা যখন বসে ছিলেন, তখন আমরা বিশ্বসেরা আয়োজনটি সফল করতে মাঠে কাজ করেছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, পুরো টুর্নামেন্টে সহিংসতা বা বড় ধরনের কোনো নিরাপত্তা সমস্যা ঘটেনি। আমরা শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। ছিল শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাস।’

তবে ইনফান্তিনোর এই বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ম্যাচ শেষে হওয়া সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা নিজেই তদন্ত চালাচ্ছে।

এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কয়েকটি দেশের সমর্থক, কর্মকর্তা ও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা ভিসা জটিলতায় পড়েন। সোমালিয়ার এক আন্তর্জাতিক রেফারিও বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান দলকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য থেকে তাদের অনুশীলন কেন্দ্র সরিয়ে মেক্সিকোয় নিতে হয়েছিল। পরে তিনটি গ্রুপ ম্যাচ খেলতে তাদের বারবার সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়, যা দলটির জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এসব সমালোচনার জবাবে ইনফান্তিনো বলেন, কয়েকজন ভিসা না পেলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই বিশ্বকাপ দেখতে এসেছেন। তার দাবি, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য গড়ে তোলে।

তিনি বলেন, ‘ইরান কোনো সংঘাত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। তারা ভিসা পেয়েছে, কারণ ফুটবল শান্তির প্রতীক। ফুটবল রাজনীতির বিষয় নয়।’

যদিও ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের দলকে আসরের ‘সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা ও শৃঙ্খলাবিষয়ক কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও সমালোচনা হয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড়ের লাল কার্ডের পর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা স্থগিত এবং আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের কয়েকটি রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইনফান্তিনো অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার নাম উল্লেখ না করে বলেন, রেফারির ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা পরে শাস্তি পরিবর্তনের ঘটনা বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত দেখা যায়। অথচ যেসব দেশ নিজেদের প্রতিযোগিতায় এসব বিষয় মেনে নেয়, তারাই বিশ্বকাপের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা করছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। এরই মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করে ইনফান্তিনো প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে সমর্থন জানিয়েছেন।

সব বিতর্কের মধ্যেও ইনফান্তিনোর দাবি, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল বার্তা ছিল শান্তি, সম্প্রীতি ও বৈশ্বিক ঐক্য। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ফুটবলের ইতিবাচক দিকগুলো দেখার সময় এসেছে এবং মাঠে লড়াই করা দলগুলোর প্রতি আরও সম্মান দেখানো উচিত।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..