✕

সর্বশেষ :
হরমুজে ইরানের নতুন চাল, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো সুপ্রিম কোর্টের ছুটির সংস্কৃতি বিচার ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল পাবনায় হাসপাতালে প্রসবের পর দুই নবজাতকের মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে : সংস্কৃতিমন্ত্রী বিনিয়োগ ও ব্লু ইকোনমি নিয়ে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা: মাহ্দী আমিন আন্দোলনের মাঝেই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করল দিল্লি পুলিশ হুতিদের হামলায় আতঙ্কিত সৌদি যুবরাজ, বাংকারে আশ্রয়ের খবর লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন অনিয়মিত অভিবাসন রোধে একযোগে কাজ করতে সম্মত বাংলাদেশ ও ইইউ তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে

যমুনার তীব্র ভাঙনে বিলীন অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৭, | ১৫:৪০:২২ |

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, একটি মসজিদ, ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে পাকা সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় হাটবাজার।

ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত ১৫ দিন ধরে যমুনার প্রবল স্রোতে নদীতীর ধসে পড়ছে। বসতভিটা রক্ষায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে অনেকে তা-ও করতে পারছেন না। বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের হাজারো মানুষের।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের ভাঙনে পশ্চিম সলিমাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত প্রায় ২২ বছর পুরোনো একটি মসজিদও নদীতে তলিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিলেও তা রোধে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বছরই তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়।

বসতভিটা হারানো আব্দুল হক (৬০) বলেন, ১৩ শতাংশ জমির ওপর আমার বসতবাড়ি ছিল। এখন সবই নদীগর্ভে চলে গেছে। পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়ান জানান, তার একমাত্র ছাপরাঘর ও আশপাশের গাছপালাও নদীতে বিলীন হয়েছে।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত রাসেদ মিয়া বলেন, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ বিঘা জমি ও বসতভিটা নদীতে তলিয়ে গেছে। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন বারেক, ছালাম, কুদ্দুছ, শাহ আলম, মতিন, সাকিলসহ আরও অনেক পরিবার।

সলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গত ১৫ দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। দ্রুত স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না হলে পশ্চিম সলিমাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন বলেন, নদীভাঙন রোধে পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে তাদের সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..