দক্ষিণ লেবাননে সংবাদমাধ্যমের চিহ্ন সম্বলিত গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত তিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার ওই এলাকার জিজিন রোডে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক ছাড়াও এক প্যারামেডিক নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আল-মায়াদিন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ফাতিমা ফাতুনি, তার ভাই ও সহকর্মী মোহাম্মদ ফাতুনি এবং আল-মানার টিভির প্রখ্যাত যুদ্ধ সংবাদদাতা আলী শুয়াইব।
আল-মায়াদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিকদের গাড়িটি লক্ষ্য করে চারটি নিখুঁত লক্ষ্যভেদী মিসাইল ছোঁড়া হয়। এরপর ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে সেখানেও হামলা চালানো হয়, যার ফলে একজন প্যারামেডিক প্রাণ হারান।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আলী শুয়াইব হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান ট্র্যাক করছিলেন। তবে আল-মানার কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে একজন পেশাদার যুদ্ধ সংবাদদাতা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তিনি ১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭৩৮ নম্বর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘পেশাগত দায়িত্ব পালনরত বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা একটি জঘন্য অপরাধ।’’
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামও একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১২৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছিলেন, যা তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুর জন্য ইসরায়েল দায়ী।
জায়নিস্টদের হামলায় গত কয়েক সপ্তাহে লেবাননের আল-মায়াদিন নেটওয়ার্ক মোট ৬ জন সাংবাদিককে হারিয়েছে।
২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই আঞ্চলিক সংঘাতের চতুর্থ সপ্তাহে লেবাননে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৪২ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে হিজবুল্লাহও পাল্টা অভিযানের দাবি জানিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
এ জাতীয় আরো খবর..