ইসরাইল থেকে মুক্তি পাওয়া

গাজার শিশুর শরীর সিগারেটে পোড়ানো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৭, | ১৮:৪২:১৮ |

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনী প্রায় ১০ ঘণ্টা আটক রাখার পর এক ফিলিস্তিনি শিশুকে ফিরিয়ে দিয়েছে। শিশুটির শরীরে ‘সিগারেটের দাগের মতো পোড়া চিহ্ন’ পাওয়া গেছে। খবর মিডলইস্ট আইয়ের




২১ মাস বয়সি শিশু জাওয়াদ আবু নাসারকে তার বাবা ২৫ বছর বয়সি ওসামা আবু নাসারের সঙ্গে ১৯ মার্চ কেন্দ্রীয় গাজা থেকে আটক করা হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মিষ্টি কিনতে সকাল ১০টার দিকে ওসামা তার সন্তানকে নিয়ে বের হয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় নিজের বাড়ি, অনাগত সন্তান এবং জীবিকা হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ওসামা। ঈদের দিন মিষ্টি কিনতে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি।

ওসামার বাবা মুহাম্মদ হুসনি আবু নাসার জানান, ‘ওসামা যখন বের হয়, তখন মনে হচ্ছিল সে পশ্চিমে না গিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছে। প্রতিবেশীরা আমাকে ফোন করে বলল, তাড়াতাড়ি আসুন, আপনার ছেলে তার শিশুকে কাঁধে নিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছে।’

মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ইসরাইলি বাহিনী ‘ইয়েলো লাইন’ নামে একটি সামরিক সীমারেখা বানিয়ে রেখেছে। গাজায় এটি একটি নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত, যেখানে গেলে সাধারণ মানুষ ঝুঁকিতে পড়ে।

প্রতিবেশীরা জানান, ওসামা সেখানে পৌঁছানোর পর ইসরাইলি বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে গুলি না চালিয়ে তার আশেপাশে গুলি ছোড়ে।

ওসামার বাবা বলেন, ‘বেচারা বুঝতেই পারছিল না যে, সে কী করছে, তাই হাঁটতেই থাকে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন ওসামার কাছে আসে। এরপর তাকে তার সন্তানকে নামিয়ে রেখে সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যেতে এবং কাপড় খুলে ফেলতে দেখা যায়। ওসামার বাবার ভাষ্য, ‘সে শুধু অন্তর্বাস পরে ছিল এবং একেবারে শান্ত ছিল, কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি।’

ওসামা আটক হওয়ার খবর পেয়ে তার বাবা মুহাম্মদ আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে গিয়ে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে আসেন। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) তাকে ফোন করে জানায় যে, তার নাতিকে তারা পেয়েছে।

ওসামার বাবার ভাষ্য, ‘তারা আমাকে মাঘাজি বাজার এলাকায় আসতে বলে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে দুটি আইসিআরসির গাড়ি দেখি। তারা শিশুটিকে একটি কম্বলে জড়িয়ে আমাদের হাতে তুলে দেয়।’

কম্বল খুলে তিনি শিশুর প্যান্টে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখতে পান। জানতে চাইলে জানানো হয়, তার বাবার কাঁধে আঘাত ছিল এবং এই সেই রক্তেরই দাগ।

আইসিআরসি জানায়, তারা শিশুটিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে গ্রহণ করে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে শিশুটির শারীরিক বা মানসিক অবস্থার বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

পরিবারের দাবি, বাড়িতে আনার পর শিশুটির শরীরে বিভিন্ন স্থানে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাঁটুর চারপাশে পোড়া দাগ এবং একটি ধারালো বস্তু দিয়ে করা সৃষ্ট গভীর ক্ষত ছিল।

শিশুটি সারারাত ব্যথায় এবং ভয়ে কেঁদেছে, ঘুমাতেও পারেনি। পরদিন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, এসব আঘাত গোলাবারুদের কারণে নয়, বরং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চিকিৎসা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তার হাঁটু ফুলে গেছে এবং উভয় হাঁটুর চারপাশে সিগারেটের দাগের মতো ক্ষত রয়েছে।

তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং হামাসের প্রচারণার অংশ।

তিনি উল্টো দাবি করেন, শিশুটিকে একজন হামাস কর্মী মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিপজ্জনক এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল। বরং ইসরাইলি সেনারা তাকে নিরাপদে রাখে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়, এরপর দ্রুত রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করে।

পরিবারের দাবি, মুক্তির পর থেকে শিশুটির জ্বর ও বমি। সে অবিরাম কান্না করছে। ভয়ে সে সবসময় মায়ের কোলেই থাকছে।

উল্লেখ্য, অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ‘ইয়েলো লাইন’ সংলগ্ন এলাকায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত, আহত বা আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই আটক থেকে মুক্তি পেয়ে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..