দক্ষিণ লেবাননে শ্বেত ফসফরাস বোমা হামলা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-২৭, | ১০:৫০:৩২ |
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আবাসিক এলাকায় নিষিদ্ধ শ্বেত ফসফরাস বোমা ব্যবহার করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। 


আল-মায়াদিন নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের আরনউন, ইউহমোর আল-শাকিফ এবং কফার তিবনিত এলাকায় এই মারাত্মক অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হানা হয়েছে। 

গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে যে, এই আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৯৪ জন নিহত এবং ৩ হাজার ১১৯ জন আহত হয়েছেন।

গত চার সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি হামলার এই সাম্প্রতিক ঢেউয়ে লেবাননের ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন। 

জনবহুল এলাকায় শ্বেত ফসফরাস ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের একটি চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এই রাসায়নিক অস্ত্রটি মানুষের শরীরে গভীর ক্ষত ও দীর্ঘমেয়াদী যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। 

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আবাসিক এলাকায় এ ধরনের মারণাস্ত্র মোতায়েনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। 

তারা উল্লেখ করেছে যে, এটি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।

গণহত্যা, ব্যাপক হারে বাস্তুচ্যুতি এবং নিষিদ্ধ অস্ত্রের এই ব্যবহার আন্তর্জাতিক সংবিধি অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

জেনেভা কনভেনশন এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রটোকলগুলোতে বেসামরিক এলাকায় অগ্নিসংযোগকারী অস্ত্রের ব্যবহার স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং সুরক্ষিত জনগোষ্ঠীর ওপর এ ধরনের পরিকল্পিত হামলার জন্য জবাবদিহিতার দাবি জানানো হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের উদ্দেশ্যমূলক ক্ষতি করা এবং অসম সামরিক শক্তি ব্যবহারের তথ্য-প্রমাণ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগকে আরও জোরালো করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..