✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৫-০৩-১৩, | ০৮:১২:৪১ |দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরালো নয়। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হয়ে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পাকিস্তানের অনুকূলে। বাংলাদেশ সেখান থেকে তুলা, সুতা, কাপড় ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লে বাংলাদেশ উপকৃত হবে। কারণ ব্যবসায়ীরা সেখান থেকে আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল কেনার ব্যাপারে আশাবাদী।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে—চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রতিবেশী পাকিস্তানে রপ্তানি করেছে তিন ৩৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ৬১ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের রপ্তানি ৮৩ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে—চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের আমদানি ছিল ৩৭২ দশমিক এক মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পাকিস্তান থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬২৭ দশমিক আট মিলিয়ন ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৬৯৮ দশমিক সাত মিলিয়ন ডলার।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও দুর্বল বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেনি।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করেছিল ১৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। দেশটির মোট আমদানির ২৬ দশমিক চার শতাংশ। একই বছর ভারত থেকে আমদানি করা হয় নয় বিলিয়ন ডলার। এটি বাংলাদেশের মোট আমদানির ১৪ দশমিক তিন শতাংশ।
বিপরীতে, পাকিস্তান থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ৬২৭ দশমিক আট মিলিয়ন ডলার। এটি বাংলাদেশের মোট আমদানির এক শতাংশ। পাকিস্তান বাংলাদেশের ২০তম বৃহত্তম আমদানি অংশীদার।
এর বেশিরভাগ অর্থাৎ ৪৭৬ দশমিক তিন মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে তুলা আমদানিতে।
রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের খাদ্য ও জ্বালানিসহ প্রধান পণ্যগুলোর নির্ভরযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও নতুন নতুন উৎস দরকার। পণ্য সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান এখন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। দুই সরকারের মধ্যে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সেগুলো যৌক্তিক হওয়া উচিত।
স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা থাকলেও রপ্তানির পরিমাণ কম হওয়ায় বাংলাদেশ লাভবান হতে পারছে না।
পাকিস্তানের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আশু প্রয়োজন দেখছেন না আব্দুর রাজ্জাক। তার ভাষ্য—বড় বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে অবদান রাখতে পারে।
বর্তমানে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য দক্ষিণ এশিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের পাঁচ শতাংশেরও কম।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে গত ১৫ বছর ধরে প্রায় স্থবির হয়ে থাকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে।
প্রতিযোগিতামূলক দামকে মূল বিষয় হিসেবে তুলে ধরে আবুল কাসেম বলেন, এটি ব্যবসার জন্য ইতিবাচক হবে। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক দামে পাকিস্তানি সুতি কাপড় ও ডেনিম কিনতে পারে।
একই মত ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেনেরও।